কুবির চিঠি চত্বরে আর আসে না প্রিয়জনের চিঠি

একসময় দূরের প্রিয়জনের হাতে লেখা চিঠির অপেক্ষায় থাকতেন মানুষ। ডাকপিয়নের সাইকেলের ঘণ্টা কিংবা ডাকবাক্সে চিঠি পড়ার শব্দে জেগে উঠত নতুন প্রত্যাশা। তবে দ্রুতগতির যোগাযোগব্যবস্থায় হারিয়ে গেছে হাতে লেখা চিঠির দিন। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) চিঠি চত্বরও এখন সেই হারিয়ে যাওয়া সময়ের নীরব স্মৃতি বহন করছে।
বিশ্ব চিঠি লেখা দিবস উপলক্ষ্যে ক্যাম্পাসের চিঠি চত্বর ঘুরে দেখা যায়, একসময় চিঠির সঙ্গে আবেগ ও অপেক্ষার যে সম্পর্ক ছিল, তার অনেকটাই এখন স্মৃতিতে ঠাঁই নিয়েছে। কী লিখবেন, কীভাবে লিখবেন, সেটি ভাবতে ভাবতেই তৈরি হতো আলাদা এক আবেগ। চিঠি পৌঁছাতে কয়েক দিন বা কখনো সপ্তাহও লেগে যেত। অপেক্ষার মধ্যেই তৈরি হতো সম্পর্কের অন্যরকম গভীরতা।
কুবির প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী জুবায়ের হাসান রাফাত বলেন, এখন কাউকে কিছু বলতে হলে মুহূর্তেই ফোন করা যায়। মেসেঞ্জার বা হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়ে সঙ্গে সঙ্গে উত্তরও পাওয়া যায়। কিন্তু হাতে লেখা চিঠির যে আলাদা অনুভূতি, সেটি প্রযুক্তির মাধ্যমে পাওয়া কঠিন।
শিক্ষার্থী তানজিলা মাইশা বলেন, চিঠি চত্বর নামটির মধ্যেই একটা নস্টালজিয়া আছে। আমরা হয়ত চিঠি লিখি না, কিন্তু জায়গাটির নাম শুনলেই পুরোনো দিনের কথা মনে হয়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এই জায়গাটি চিঠি লেখার সংস্কৃতির একটি স্মারক হয়ে থাকতে পারে।
প্রযুক্তির বিকাশ মানুষের যোগাযোগকে যেমন সহজ ও দ্রুত করেছে, তেমনি কমিয়ে দিয়েছে চিঠির প্রয়োজনীয়তা। ফলে ডাকঘর, ডাকবাক্স কিংবা হাতে লেখা চিঠির সঙ্গে নতুন প্রজন্মের সম্পর্ক ক্রমেই ক্ষীণ হচ্ছে।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় পোস্ট অফিসের সাবপোস্টমাস্টার ফারহানা শারমিন লিজা বলেন, একসময় শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত চিঠি আসত। এখন প্রযুক্তির ব্যবহারে সেই চিঠির সংখ্যা অনেক কমে গেছে। বর্তমানে মূলত দাপ্তরিক চিঠিপত্র ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাগজপত্রই বেশি আসে। তবে চিঠির সঙ্গে মানুষের আবেগ ও স্মৃতির যে সম্পর্ক, সেটি এখনো অনেকের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, আজ বিশ্ব চিঠি লেখা দিবসে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয়-২৪ হল থেকে নওয়াব ফয়জুন্নেছা হলে একটি চিঠি এসেছে। এছাড়া আজ আমাদের অফিসে সারাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মোট ৭০টি চিঠি এসেছে।
তবুও কুবির চিঠি চত্বর যেন মনে করিয়ে দেয়—যোগাযোগ শুধু তথ্য আদান-প্রদানের বিষয় নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে অনুভূতি, অপেক্ষা ও স্মৃতি। হয়ত ডাকবাক্সে আর আগের মতো চিঠি জমে না, কিন্তু চিঠির সেই আবেগ এখনো বেঁচে আছে মানুষের স্মৃতিতে। বিশ্ব চিঠি লেখা দিবসে তাই কুবির চিঠি চত্বর যেন হারিয়ে যাওয়া এক সংস্কৃতির নীরব সাক্ষী যেখানে আজ চিঠি নেই, আছে চিঠির অপেক্ষার গল্প।



