logo

ঢাবিতে শিবিরের দেওয়া ‘অননুমোদিত’ এসি বন্ধ করল প্রশাসন

ঢাবিতে শিবিরের দেওয়া ‘অননুমোদিত’ এসি বন্ধ করল প্রশাসন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হল। ছবি : গুগল ম্যাপস

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিজয় একাত্তর হলের রিডিং রুমে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সৌজন্যে স্থাপন করা এয়ার কন্ডিশনার (এসি) বন্ধ রেখেছে হল প্রশাসন। অনুমতি ছাড়া এসি স্থাপনকে ‘অননুমোদিত’ উল্লেখ করে এ বিষয়ে জরুরি বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে হল সংসদের দাবি, অনুমতির জন্য বারবার আবেদন করেও প্রশাসনের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

গত ২৭ অক্টোবর জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে হল প্রশাসন জানায়, একটি ছাত্রসংগঠনের ব্যানারে বিনা অনুমতিতে রিডিং রুমে এসি স্থাপন করা হয়েছে, যা প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলার পরিপন্থি। এ ছাড়া হলের বৈদ্যুতিক সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় অতিরিক্ত যন্ত্র ব্যবহারে অগ্নিকাণ্ডসহ দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এসি স্থাপনের কারিগরি দিক মূল্যায়নের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. স ম আলী রেজা বলেন, এসি স্থাপনের জন্য হল প্রশাসনের কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। বিষয়টি জানার পর তিনি হলের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক ও প্রক্টরিয়াল টিমকে সেখানে পাঠিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া সীমিত বৈদ্যুতিক সক্ষমতার মধ্যে এসি স্থাপন সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি।

ছাত্রসংগঠনগুলোর কাছ থেকে অনুদান নেওয়ার কোনো প্রচলন বা নীতিমালা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে নেই বলেও মন্তব্য করেন প্রাধ্যক্ষ।

তবে হল প্রশাসনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন বিজয় একাত্তর হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আশিক বিল্লাহ। তিনি বলেন, এসি স্থাপনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বারবার জানানো হয়েছে। গত ৫ অক্টোবর আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়ে ১১ অক্টোবরের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাতে বলা হলেও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

আশিক বিল্লাহ জানান, ১২ অক্টোবর প্রাধ্যক্ষের কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকেও বিষয়টি তোলা হয়েছিল। তখন হল সংসদ জানিয়েছিল, কোনো সিদ্ধান্ত না এলে ছুটির মধ্যেই এসি স্থাপন করা হবে।

হল সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) হাসানুল হক বান্না ঘটনাটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। তার অভিযোগ, প্রশাসন তাদের সহযোগিতা না করে উল্টো বিরোধিতার অবস্থান নিয়েছে। অন্য হলগুলোতে বিভিন্ন সংগঠনের সৌজন্যে এসিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম নেওয়া হলেও বিজয় একাত্তর হলে তা আটকে দেওয়া হচ্ছে। রাজনৈতিক কারণেই প্রশাসন এমন করছে বলে দাবি করেন তিনি।