সীমিত সেবা ও সংকটে সোহরাওয়ার্দী কলেজের মেডিকেল সেন্টার

সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের মেডিকেল সেন্টারে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধার ঘাটতি নিয়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কলেজটির শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত স্থান, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সামগ্রীর সংকটের কারণে জরুরি পরিস্থিতিতে তারা কাঙ্ক্ষিত প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
শিক্ষার্থীরা জানান, দীর্ঘ সময় ক্যাম্পাসে অবস্থানের কারণে হঠাৎ অসুস্থতা, মাথা ঘোরা বা ছোটোখাটো দুর্ঘটনার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। এসব ক্ষেত্রে দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা পাওয়া অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু সোহরাওয়ার্দী কলেজের মেডিকেল সেন্টারটির সীমিত পরিসর ও সরঞ্জামের ঘাটতি সেই চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে পারছে না।
কলেজের শিক্ষার্থী তাসনিম বিথি বলেন, কলেজে একটি মেডিকেল সেন্টার থাকলেও তা শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনের তুলনায় কিছুই না। সেন্টারটি খুবই ছোট, নেই পর্যাপ্ত জায়গা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা। কোনো শিক্ষার্থী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত ব্যবস্থা এখানে পাওয়া যায় না।
তিনি আরও বলেন, আমরা কোনো বিলাসবহুল ব্যবস্থা চাইছি না। শিক্ষার্থীদের মৌলিক প্রয়োজন বিবেচনায় একটি পরিচ্ছন্ন, পর্যাপ্ত পরিসরের ও কার্যকর মেডিকেল সেন্টার গড়ে তোলা হোক–যেখানে অন্তত প্রয়োজনীয় ওষুধ ও ফার্স্ট এইডের ভালো ব্যবস্থা থাকবে।
নাম প্রকাশ না করে আরেক শিক্ষার্থী জানান, হঠাৎ কেউ অসুস্থ বা আহত হলে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা পাওয়াটা খুব জরুরি। কিন্তু প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও ওষুধ না থাকায় প্রায়ই জরুরি সময়ে বিপাকে পড়তে হয়। তাই দ্রুত মেডিকেল সেন্টারটি কার্যকর চিকিৎসা উপযোগী করার দাবি জানাই।
তবে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে মেডিকেল সেন্টারের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. কানিজ ফাতেমা কেয়া জানান, বর্তমানে চিকিৎসাকেন্দ্রে বড় ধরনের কোনো সমস্যা নেই। গত দুই মাসে আমরা বেশ কিছু প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি, যার ফলে শিক্ষার্থীদের চাহিদা এখন মোটামুটি পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে। আগে ফ্যান কিংবা বেডের যে সংকট ছিল, বর্তমানে তা আর নেই।
বর্তমানে কেন্দ্রে প্যারাসিটামল, আলসারের ওষুধ ও পেইনকিলারসহ সাধারণ নানা ওষুধ সরবরাহ রয়েছে। প্রতি রবি, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এখানে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়। তীব্র গরমে হিট স্ট্রোকসহ নানা শারীরিক সমস্যা নিয়ে শিক্ষার্থীরা আসে। প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১০ জন শিক্ষার্থী এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন, তবে পরীক্ষার সময় এই সংখ্যা কিছুটা বেড়ে যায়।
ওষুধের ঘাটতি প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন সুবিধা যুক্ত করার চেষ্টা চলছে। তবে মাঝেমধ্যে নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের মজুত শেষ হয়ে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে দেওয়া সম্ভব হয় না। শিক্ষার্থীরা তাদের চাহিদার কথা আমাদের জানালে আমরা সামর্থ্য অনুযায়ী ওষুধ ও অন্যান্য সুবিধার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করি।
সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যক্ষ ড. কাকলী মুখোপাধ্যায় বলেন, ইতোমধ্যে এর সমাধান করা হয়েছে। ছোট একটি ঘরে বড়ো কোনো রোগের চিকিৎসা সম্ভব নয়; তবে সাময়িক অসুস্থতা বা কাটা-ছেঁড়ার প্রাথমিক চিকিৎসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে। সরকারের আলাদা বাজেট না থাকায় শিক্ষার্থীদের দেওয়া মাত্র ২০ টাকা ফি থেকে একজন চুক্তিভিত্তিক এমবিবিএস চিকিৎসকের বেতন দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের অনেক চাওয়া-প্যাওয়া বা স্বপ্ন থাকতে পারে, তবে আমাদের সাধ্যের সীমাবদ্ধতা ও বাস্তবতা বুঝতে হবে। সদিচ্ছা থাকলেও বাজেটের কারণে সব ইচ্ছা পূরণ সম্ভব হয় না।



