চাকসুর মেয়াদ শেষ হলে পিটিয়ে বের করে দেব: হলের ভিপিকে ছাত্রদল নেতা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান হল সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) রিপুল চাকমাকে পিটিয়ে হল থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের সহসাধারণ সম্পাদক নাছিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ছাত্রদলের একাধিক নেতাকর্মীর সঙ্গে ভিপির বাকবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটেছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান হলের ৩১৩ নম্বর কক্ষের সামনে এ ঘটনা ঘটে। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে হলের সিনিয়র আবাসিক শিক্ষক ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
জানা গেছে, হলে অবৈধ শিক্ষার্থী অবস্থানের অভিযোগ পেয়ে সোমবার রাতে হলের সিনিয়র আবাসিক শিক্ষক ড. মো. নূরে আলমের নেতৃত্বে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় হল সংসদের ভিপি রিপুল চাকমা, দপ্তর সম্পাদক অরিয়ন চাকমা এবং সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক মনষা চাকমা উপস্থিত ছিলেন। ঘটনাস্থলে শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান আহমেদসহ একাধিক নেতাকর্মীও ছিলেন।
৩১৩ নম্বর কক্ষে অবৈধভাবে কোনো শিক্ষার্থী অবস্থান করছেন কি না, তা দেখতে তল্লাশি চালানো হলে ভিপি রিপুল চাকমার সঙ্গে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতার বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে ছাত্রদল নেতা হাসান আহমেদ রিপুল চাকমাকে বলেন, ‘রিপুল তুমি সীমার বাইরে গিয়ে কথা বলতেছো, তুমি এগুলো বলতে পারো না।’
পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে হলের সিনিয়র হাউস টিউটর ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
এ ঘটনার একটি অডিও রেকর্ড নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করেছেন ভিপি রিপুল চাকমা। ওই অডিওতে একপর্যায়ে নাছিম উদ্দিনকে বলতে শোনা যায়, ‘চাকসুর মেয়াদ গুনে গুনে ২৮ দিন আছে, এর পর তোকে পিটিয়ে হল থেকে বের করে দেব।’
তবে নাছিম উদ্দিনের অভিযোগ, তাকে গালি দেওয়া হয়েছিল।
ফেসবুক পোস্টে রিপুল চাকমা দাবি করেন, হলের সিনিয়র আবাসিক শিক্ষক নূরে আলম হল তল্লাশির সময় হল সংসদের সহযোগিতা চান। তারা শিক্ষককে সহযোগিতা করতে গেলে চবি ছাত্রদলের সহসাধারণ সম্পাদক শেখ নাছিম উদ্দিন তাকে চাকসুর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পিটিয়ে হল থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার পর হলের সব আবাসিক শিক্ষক ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রিপুল চাকমা আরও দাবি করেন, অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান হলের ৬০ শতাংশ আসন বৌদ্ধ ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত। তার অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নানা উপায়ে এসব আসন দখল করা হচ্ছে। নতুন এক শিক্ষার্থী অবৈধভাবে হলে উঠেছেন—এমন অভিযোগের পর তিনি প্রশাসনকে হল তল্লাশির অনুরোধ করেন। সেই তল্লাশির সময়ই সিনিয়র আবাসিক শিক্ষকের সামনে তাকে হুমকি দেওয়া এবং আক্রমণের চেষ্টা করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
এ ঘটনায় প্রক্টর অফিসে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথা জানান রিপুল চাকমা। পাশাপাশি ঘটনার বিচার ও নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে বৌদ্ধ ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ৬০ শতাংশ আসন যথাযথভাবে বাস্তবায়নেরও দাবি জানান।
ঘটনার বিষয়ে রিপুল চাকমা বলেন, একটা অপরিচিত ছেলেকে তাকে জিজ্ঞেস করি আপনি কি নতুন হলে ওঠতেছেন, সে স্বীকার আসে। পরে হল প্রশাসনকে নিয়ে ৩১৩ নম্বর রুম চেক করতে গেলে ছাত্রদল নেতা নাসিম এসে বাকবিতন্ডায় জড়ায়। সে আমাকে হল থেকে পিটিয়ে বের করার হুমকি দেয়। আমি এ বিষয়ে প্রক্টর অফিসে অভিযোগ করব।
অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা নাছিম উদ্দিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান হলের সিনিয়র আবাসিক শিক্ষক ড. মো. নূরে আলম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর আমি ৩১৩ নম্বর রুমে যাই। কিন্তু রুমে যারা থাকে তারা জানায় অবৈধ কেউ নেই। তারা অতিথি ছিল, ঘুরার জন্য এসেছিল। এরপর কথা-কাটাকাটি হয়।
এদিকে নাছিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগও তুলেছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী। তাদের দাবি, তিনি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ৬৯ গ্রুপের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। এ-সংক্রান্ত কয়েকটি ছবিও প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নাছিম উদ্দিনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান হলের কয়েকজন আবাসিক শিক্ষার্থীও নাছিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে হলে বিশেষ সুবিধায় সিট নেওয়া ও দলীয় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ করেছেন।


