সাইবার প্রতারণার শিকার শেকৃবির ১২ শিক্ষক-শিক্ষার্থী, হারালেন কয়েক লাখ টাকা

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ সাইবার প্রতারক চক্র। পুলিশ সদর দপ্তরের সাইবার বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে মামলা, গ্রেপ্তার ও ক্যাম্পাসে পুলিশ পাঠানোর ভয় দেখিয়ে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ডজনেরও বেশি শিক্ষক ও শিক্ষার্থী এই জালিয়াতির শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
ভুক্তভোগীদের বিবরণ অনুযায়ী, শুরুতেই প্রতারক চক্রের কোনো সদস্য ফোন দিয়ে নিজেকে পুলিশ সদর দপ্তরের সাইবার বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) হিসেবে পরিচয় দেয়। এরপর লেনদেনের অতি গোপনীয় তথ্য, যেমন—লেনদেনের নিখুঁত সময়, টাকার পরিমাণ ও স্থান উল্লেখ করে। গ্রাহক ও নির্দিষ্ট এজেন্টের বাইরে এসব তথ্য কারও জানার কথা না থাকায় শুরুতেই ভুক্তভোগীরা ফোনকারীকে আসল পুলিশ মনে করে বিশ্বাস করে ফেলেন।
বিশ্বাস অর্জনের পরপরই শুরু হয় মানসিকভাবে আতঙ্কিত করার খেলা। বলা হয়, ভুক্তভোগীর লেনদেনের ঠিক আগেই একজন জাল টাকা ব্যবহার করেছিল এবং নম্বরের মিল থাকায় মামলায় তাদের নাম চলে এসেছে। মামলা, গ্রেপ্তার কিংবা ক্যাম্পাসে পুলিশ পাঠানোর ভয় দেখিয়ে পরবর্তীতে বিভিন্ন কৌশলে ‘নগদ’ অ্যাকাউন্টের ওটিপি ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সম্পূর্ণ টাকা আত্মসাৎ করে চক্রটি।
এই প্রতারণার শিকার হয়ে লেভেল-১ এর শিক্ষার্থী মাহবুব আহমেদ ফাহিম ও তার মা ব্ল্যাকমেলিংয়ের শিকার হয়ে মোট ৬০ হাজার টাকা হারিয়েছেন। ল্যাপটপ কেনার জন্য পরিবার থেকে পাঠানো ৬৩ হাজার ৫০০ টাকা হারিয়েছেন লেভেল-২ এর শিক্ষার্থী সুরাইয়া আফরিন রিশা। একইভাবে প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়ে দেড় লাখ টাকা হারিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জ্যেষ্ঠ শিক্ষিকাও।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে অপর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মোছা. মোবাশ্বিরা মুস্তারিন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন মিনিবাজারের ‘বিসমিল্লাহ স্টেশনারি’ থেকে ক্যাশ আউট করার পরদিন নিজেকে পুলিশ সদর দপ্তরের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি ফোন করেন। ওই দোকানদার এক নারীর বিরুদ্ধে জাল টাকা দেওয়ার অভিযোগে জিডি করেছেন এবং ভুলবশত সেই তালিকায় আমার নম্বর চলে এসেছে। এরপর মামলা ও নগদ অ্যাকাউন্ট বন্ধের ভয় দেখিয়ে ওটিপি এবং ক্যাশ ইন করার কথা বলে আমার অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এভাবে মোট ২০ হাজার ৩০০ টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি। পরে জানতে পারি, একই দোকান থেকে লেনদেন করা আরও কয়েকজন শিক্ষার্থীও একইভাবে প্রতারিত হয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তারা প্রত্যেকেই বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন মিনিবাজারের ‘বিসমিল্লাহ স্টেশনারি’ নামের নির্দিষ্ট একটি দোকান থেকে লেনদেন করেছিলেন। লেনদেনের পরপরই সময় ও টাকার পরিমাণের মতো সংবেদনশীল তথ্য প্রতারকদের কাছে নিখুঁতভাবে পৌঁছে যাওয়াতেই সন্দেহ দানা বাঁধছে। শিক্ষার্থীদের ধারণা, ওই এজেন্ট পয়েন্ট বা দোকানের সঙ্গে এই প্রতারক চক্রের সরাসরি যোগসাজশ থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে জানার জন্য দোকানটির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের সাড়া পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আরফান আলী এশিয়া পোস্টকে জানান, ঘটনাটি তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন এবং সার্বক্ষণিকভাবে শেরেবাংলা নগর থানার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। পুলিশও বিষয়টি তদন্ত করছে।
তবে তদন্তের বর্তমান অগ্রগতি নিয়ে জানতে চাইলে শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন এশিয়া পোস্টকে জানান, এ ঘটনায় একটি জিডি হয়েছে এবং তদন্ত কার্যক্রম চলছে। তবে এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি।




