এশিয়া পোস্টে সংবাদ প্রকাশের পর মেহেরুল্লাহনগরে ট্রেন স্টপেজ চেয়ে রেল কর্তৃপক্ষকে যবিপ্রবির চিঠি

শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের দুর্ভোগ লাঘবে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন মেহেরুল্লাহনগর স্টেশনে আন্তঃনগরসহ সব ধরনের ট্রেনের স্টপেজ চালুর দাবি জানিয়েছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) প্রশাসন। এ বিষয়ে ‘এশিয়া পোস্ট’-এ সংবাদ প্রকাশের পর বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীরের নির্দেশক্রমে রেজিস্ট্রার কাজী মো. জালাল উদ্দীন স্বাক্ষরিত চিঠিটি রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের (রাজশাহী-খুলনা) মহাব্যবস্থাপকের কাছে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে রেলপথ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে এর অনুলিপি দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ২০০৮-২০০৯ শিক্ষাবর্ষ থেকে শিক্ষা ও গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে যবিপ্রবি। বর্তমানে এখানে ৩৮টি বিভাগ, ৮টি অনুষদ, ২টি ইনস্টিটিউট, ৬টি আবাসিক হল ও ২৪টি দপ্তর রয়েছে। এসব বিভাগের প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক-কর্মকর্তাদের দাপ্তরিক ও ব্যক্তিগত প্রয়োজনে নিয়মিত রেলপথে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু কাছে কার্যকর কোনো রেলস্টেশন না থাকায় তাদের প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরের যশোর জংশনে যেতে হয়। এতে সময় ও অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ে স্টেশনে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে।
যশোর সদর উপজেলার ৭ নম্বর চূড়ামনকাটি ইউনিয়নের অন্তর্গত মেহেরুল্লাহনগর রেলস্টেশনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে কাছের স্টেশন। তবে সেখানে একটি মেইল ট্রেন ছাড়া কোনো আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজ নেই। তাই শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সহজ ও নিরাপদ করতে সেখানে সব ধরনের দূরপাল্লার ট্রেনের স্টপেজ চালুর অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এর আগে, গত ১ আগস্ট ‘যবিপ্রবিসংলগ্ন স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজ দাবি’ শিরোনামে এশিয়া পোস্টে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পরেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রেল কর্তৃপক্ষের কাছে এই চিঠি প্রদান করল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এই উদ্যোগে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা জানান, মেহেরুল্লাহনগর স্টেশনে ট্রেনের স্টপেজ চালু হলে শুধু যবিপ্রবি পরিবার নয়, আশপাশের এলাকার সাধারণ মানুষও সুফল পাবেন।
যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছি। বর্তমান সরকারের রেল যোগাযোগের আধুনিকায়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মেহেরুল্লাহনগর স্টেশনে দ্রুত ট্রেনের স্টপেজ চালু করা হবে বলে আমরা আশাবাদী।



