logo
Advertisement

উপাচার্যের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলনে অনড় চাকসু

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ,চবি
উপাচার্যের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলনে অনড় চাকসু
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে তালা লাগিয়ে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন চাকসু নেতারা। ছবি : এশিয়া পোস্ট

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) সিএনজি চালকদের সিন্ডিকেট ভাঙা ও ক্যাম্পাসে স্থায়ীভাবে চক্রাকার বাস চালুর দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ চাকসু। আন্দোলন স্থগিত রাখার জন্য উপাচার্যের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন চাকসু নেতৃবৃন্দ।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে তালা লাগিয়ে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন চাকসু নেতারা।

চাকসুর যোগাযোগ ও আবাসনবিষয়ক সম্পাদক মো. ইসহাক ভূঁঞা রাতের আন্দোলনের সর্বশেষ পরিস্থিতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তুলে ধরেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাত ১১টা ৩৫ মিনিটের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান তাকে ফোন করেন। এ সময় উপাচার্য সাময়িকভাবে দুটি বাস চালুর প্রস্তাব দেন। তবে চাকসু নেতারা উপাচার্যকে জানান, ক্যাম্পাসে স্থায়ীভাবে চক্রাকার বাস চালু না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন থেকে সরে যাবেন না। এরপর উপাচার্যের পক্ষ থেকে আর কোনো সমাধান প্রস্তাব দেওয়া হয়নি বলে জানান তারা।

এক ফেসবুক পোস্টে ইসহাক ভূঁঞা লেখেন, ‘আমরা স্পষ্ট বলেছি, স্থায়ীভাবে চক্রাকার বাস চালু হওয়া পর্যন্ত আমরা উঠছি না। প্রয়োজনে সারা রাত অবস্থান করব। কিন্তু দাবি মেনে নেওয়ার আগ পর্যন্ত উঠব না, ইনশা আল্লাহ।’

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্যাম্পাসে যাতায়াতে দীর্ঘদিন ধরে তাদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাজিয়া ইসলাম মাওয়া জানান, গত চার মাস ধরে যাতায়াত নিয়ে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন তারা। তার অভিযোগ, রেলক্রসিং থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত সিএনজির ভাড়া ৭ টাকা হলেও ১০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। একইভাবে বাসের ৫ টাকা ভাড়াও এখন ১০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, গত ৫ সেপ্টেম্বর ট্রেন মিস করার পর মুরাদপুর থেকে বাসে উঠতে গেলে চালক প্রথমে তাকে নিতে অস্বীকৃতি জানান। শিক্ষার্থী পরিচয়পত্র দেখানোর পরও ৩০ টাকা ভাড়ায় যেতে রাজি হননি চালক। পরে ৪০ টাকা ভাড়া দিতে রাজি হলে তাকে বাসে নেওয়া হয়।

সোমবার রাতে সিএনজি চালকদের সিন্ডিকেট ভাঙা, ক্যাম্পাসে চক্রাকার বাস চালু এবং শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সমস্যার সমাধানের দাবিতে মূল ফটকে তালা লাগিয়ে আন্দোলন শুরু করে চাকসু। এ সময় প্রক্টরিয়াল বডি ও নিরাপত্তা দপ্তরের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অন্য কোনো কর্মকর্তা সরাসরি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না বলে চাকসু নেতারা জানান।

আন্দোলনের সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে চাইলে ইসহাক ভূঁঞা বলেন, আমাদের আন্দোলন শিক্ষার্থীদের জন্য। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা মূল ফটকে অবস্থান করব।