ইবিতে প্রো-ভিসির বিরুদ্ধে খাতা হারানোর অভিযোগ, তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের দ্বিতীয় বর্ষ প্রথম সেমিস্টারের একটি কোর্সের উত্তরপত্র হারিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রো-ভিসি) অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেনের বিরুদ্ধে।
এতে প্রায় পাঁচ মাস ধরে ওই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের সেমিস্টারের ফলাফল আটকে রয়েছে। ফল প্রকাশ না হওয়ায় পরবর্তী সেমিস্টারের পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করেও তা স্থগিত করেছে বিভাগ। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশ থেকে এ তথ্য জানা যায়।
কমিটিতে খালেদা জিয়া হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. এএসএম আয়নুল হক আকন্দকে আহ্বায়ক এবং উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কামরুজ্জামানকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। কমিটির অপর সদস্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মামুন আল রশীদ।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এএসএম আয়নুল হক আকন্দ এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘চিঠি হাতে পেয়েছি। আশা করি, দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারব।’
বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের দ্বিতীয় বর্ষ প্রথম সেমিস্টারের পরীক্ষা গত ২ মে শুরু হয়ে ২০ মে শেষ হয়। ছয়টি কোর্সের মধ্যে পাঁচটির মূল্যায়ন নম্বর পরীক্ষা কমিটির সভাপতির কাছে জমা পড়লেও ২১০৭ নম্বর কোর্সের উত্তরপত্র না পাওয়ায় ফলাফল প্রকাশ করতে পারেনি বিভাগ।
সূত্র জানায়, গত ১১ মে কোর্সটির উত্তরপত্র পান অভ্যন্তরীণ পরীক্ষক ড. শাহাবুল আলম। ২০ মে মূল্যায়ন শেষে তিনি উত্তরপত্রগুলো বিভাগে জমা দেন। পরে বিভাগের কর্মচারী জাবেদ আলী ৬০টির বেশি উত্তরপত্রের বান্ডিল বহিরাগত পরীক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেনের কাছে পৌঁছে দেন বলে জানান তিনি। এরপর থেকেই উত্তরপত্রগুলোর হদিশ পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি বিভাগীয় শিক্ষকদের।
এদিকে প্রথম সেমিস্টারের ফল প্রকাশ না হলেও বিভাগ ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত দ্বিতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করে। পরে ‘অনিবার্য কারণ’ দেখিয়ে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।
