কীটনাশক পানে শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) কীটনাশক সেবনে শাহরিয়ার বাঁধন (২১) নামে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে নয় দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন রসায়ন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. ইকবাল আহমেদ সিদ্দিকী।
মৃত শাহরিয়ার বাঁধন বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি চুয়াডাঙ্গা জেলায়। তিনি ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী টিলারগাঁও এলাকার একটি মেসে থাকতেন।
সহপাঠী সূত্রে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১১টার দিকে মেসে থাকা অবস্থায় কীটনাশক পান করেন শাহরিয়ার। তবে প্রাথমিক অবস্থায় তিনি বিষয়টি কাউকেই জানাননি। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিষয়টি বুঝতে পেরে সহপাঠী ও বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তাকে উদ্ধার করে ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। পরবর্তীতে তাকে আইসিইউ-২ এর ১৭ নম্বর বেডে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার তার মৃত্যু হয়।
শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বরাতে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গার বাসিন্দা বাঁধনের সঙ্গে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) এক তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ঘটনার রাতে ওই তরুণী ও তার এক আত্মীয়ের সঙ্গে ফোনে বাঁধনের কথা-কাটাকাটি ও মান-অভিমান হয়। বাঁধনের ব্যবহৃত মোবাইলে এর কল রেকর্ড ও বার্তা (মেসেজ) পাওয়া গেছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রসায়ন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. ইকবাল আহমেদ সিদ্দিকী এশিয়া পোস্টকে বলেন, চিকিৎসক তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। খবর পেয়েই শিক্ষকরা হাসপাতালে যাই। যবিপ্রবির এক নারী শিক্ষার্থীর সঙ্গে প্রেমঘটিত কলহ থেকে তিনি বিষপান করেছেন বলে জানতে পেরেছি। এর আগেও ১ম বর্ষের ১ম সেমিস্টারে অধ্যয়নকালে তিনি ইঁদুরের বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন এবং সে সময়ও ৪-৫ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
সার্বিক বিষয়ের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোখলেছুর রহমান এশিয়া পোস্টকে বলেন, প্রশাসনিক ও পুলিশি সব ধরনের আইনি প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ক্যাম্পাসে তার জানাজার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
