গোবিপ্রবি ছাত্র গণমঞ্চের সদস্যসচিব শাওনের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (গোবিপ্রবি) শাখা ছাত্র গণমঞ্চের সদস্যসচিব নাফিস আহমাদ শাওনের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে সংগঠনটি। হামলায় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক ও সহ-সভাপতি আনোয়ার জড়িত বলে অভিযোগ করেছে ছাত্র গণমঞ্চ।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় ক্যাম্পাসের লিপুস ক্যান্টিন থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এসব শাখা ছাত্র গণমঞ্চের আহ্বায়ক শান্ত শাহরিয়ার, যুগ্ম আহ্বায়ক নিঘাত রৌদ্র এবং আহত সদস্যসচিব নাফিস আহমাদ শাওনসহ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
জানা যায়, গতকাল সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) শহীদ তিতুমীর হলের সিটকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে রসায়ন বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী জড়িয়ে পড়লে শাওন তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে এবং হলের কোনো আসবাবপত্র বা জিনিসপত্র যাতে ভাঙচুর না হয়, সেজন্য শিক্ষার্থীদের থামাতে এগিয়ে যান। এসময় তাকে রাজনৈতিকভাবে ট্যাগিং করে শফিকুল ইসলাম শফিক ও আনোয়ারের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়। হামলায় শাওন গুরুতর আহত হন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তার ডান হাতের কবজি ভেঙে যাওয়ার কথা জানান।
বিক্ষোভ মিছিল শেষে বক্তব্য যুগ্ম আহ্বায়ক নিঘাত রৌদ্র বলেন, এই প্রশাসন হলো জমিদার, হামলাকারীরা জমিদারের পেয়াদার পেয়াদা আর সাধারণ শিক্ষার্থীরা হলো প্রজা। এই হামলাকারীদের কারওরই ছাত্রত্ব নেই। তারা সবসময় সরকারি দল ও প্রশাসনের মদদে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন চালায়। প্রত্যেকটি মারামারির ঘটনায় তাদের সামনের সারিতে পাওয়া যায়, অথচ তাদের বিচার কখনোই হয় না। এবার প্রশাসন তাদের বিচার না করলে আমরা প্রশাসনের বিচার করব।
হামলায় আহত সদস্য সচিব নাফিস আহমাদ শাওন বলেন, আমি বলছি না, আমি তদন্ত চাই; আমি বলছি, তদন্ত করতে হবে এবং সর্বোচ্চ দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচার কার্যকর করতে হবে। আমরা আর প্রশাসনকে সন্ত্রাস পুষে বড় করতে দেব না।
হামলার অভিযোগের বিষয়ে ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিকের কাছে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি এশিয়া পোস্টকে বলেন, কাউকে গিয়ে মারা হয়নি এবং শাওনের সঙ্গে আমার কোনো ধরনের দেখাও হয়নি। এমনকি ঘটনাস্থলে শাওন ছিল কি না, তাও জানি না। এই ধরনের অভিযোগ কেন এবং কী কারণে দেওয়া হয়েছে, বিষয়টি আমি বলতে পারি না। বরং আমি নিজেই হাসপাতালে শাওনকে দেখতে গিয়েছিলাম এবং তার হাতে আঘাত লেগে ফাটল ধরেছে, তা প্রত্যক্ষ করেছি। শাওনের ওপর আমি হামলা করিনি। আর তার ওপর কে হামলা করেছে, তাও জানি না।
সমাবেশ শেষে ছাত্র গণমঞ্চের আহ্বায়ক শান্ত শাহরিয়ার পরবর্তী কর্মসূচি হিসেবে আগামীকাল প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার ঘোষণা দেন এবং তাদের আন্দোলন চলমান থাকার কথা বলেন।


