কুবিতে প্রথমবারের মতো চিঠি উৎসবের আয়োজন

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবিতে) বিশ্ব ডাক দিবস উপলক্ষে চিঠি লিখন উৎসবের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করেন কুমিল্লা পোস্টাল ডিভিশন। জানা যায়, প্রথমবারের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজনটি করা হয়।
রোববার (১১ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাডমিন্টন কোর্টে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. বেলাল উদ্দিন, কুমিল্লা পোস্টাল ডিভিশনের প্রধান মো. তরিকুল ইসলামসহ ডাক পোস্টালের অন্যান্য কর্মকর্তারা।
কুমিল্লা পোস্টাল ডিভিশনের প্রধান মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, আপনারা জানেন সম্প্রতি স্পিড পোস্ট নামে একটি সার্ভিস চালু করা হয়েছে। খুবই কম রেটে। এর বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, ২৪ ঘন্টার মধ্যে যেকোনো জেলা পর্যায়ে পৌঁছে যাবে এবং ৪৮ ঘন্টার মধ্যে এক জেলা থেকে আরেক জেলায় বিল হবে, মানে প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত বিল হবে। রেট খুবই কম। স্টুডেন্টরা যারা হলে থাকেন, তারা স্টুডেন্টশিপ শেষে তাদের দেখা যায় যে আনুষঙ্গিক যে জিনিসপত্র থাকে, ল্যাব, বই-খাতা, এগুলো তিনি বাড়িতে নিতে পারেন। তিনি তার পরবর্তী যে গন্তব্য, সেখানে পৌঁছে দিতে পারেন। খুবই কম টাকায় আমরা সেই পোস্ট অফিসের মাধ্যমে বুকিং করে পাঠিয়ে দেব।
পাশাপাশি স্টুডেন্টরা যখন জব সেক্টরে যাবেন, তারা তো বিভিন্ন সময় পার্সেল পাঠায়। তাদের এই পার্সেলগুলো যাতে দেশ-বিদেশে আমরা পৌঁছে দিতে পারি এবং তারা যেন খুব কম টাকায় আমাদের মাধ্যমে সেবাটা নিতে পারেন, এই উদ্যোগের সামনে রেখে মূলত আমরা আজকে এই প্রোগ্রাম করছি।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. বেলাল উদ্দিন বলেন, ডাক বিভাগের সেবাগুলো সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে। প্রযুক্তিনির্ভর, সমন্বিত ও জনবান্ধব সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এসব সেবার প্রচারেও গুরুত্ব দিতে হবে। ডাক বিভাগ তুলনামূলক কম খরচে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ডাকসেবা দিয়ে থাকে। এসব সেবা সম্পর্কে মানুষকে জানানো গেলে শিক্ষার্থীসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপকৃত হবেন।
তিনি বলেন, প্রযুক্তি ও ডিজিটালাইজেশনের যুগে ডাক বিভাগকে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন নতুন সেবা চালু করতে হবে। একই সঙ্গে বিদ্যমান সেবাগুলোকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও সহজলভ্য করতে হবে। স্পিড পোস্ট ও ইএমএসের মতো সেবা সম্পর্কে অনেকেই জানেন না। অথচ আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সেবার তুলনায় কম খরচে এসব সেবা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। তাই ডাক বিভাগের সেবাগুলো সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
অধ্যাপক বেলাল উদ্দিন বলেন, ডাক বিভাগের সঙ্গে সাধারণ মানুষের একসময় নিবিড় সম্পর্ক ছিল। ছোটবেলায় ডাকসেবার যে ব্যবহার ও গুরুত্ব দেখা গেছে, বর্তমান প্রজন্মের অনেক শিক্ষার্থীর কাছে তা ততটা পরিচিত নয়। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে ডাক বিভাগের ঐতিহ্য, কার্যক্রম ও সেবার সঙ্গে নতুন প্রজন্মের পরিচয় ঘটানো সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, ডাক বিভাগ শুধু চিঠিপত্র আদান-প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; সঞ্চয়পত্রসহ বিভিন্ন আর্থিক সেবার ক্ষেত্রেও এর ভূমিকা রয়েছে। এসব সেবা সম্পর্কে যথাযথ প্রচার চালানো গেলে সাধারণ মানুষ আরও সহজে সেগুলো গ্রহণ করতে পারবেন। এ জন্য ডাক বিভাগকে প্রচার ও বিপণন কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পোস্ট অফিসের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের যোগাযোগ ও চিঠিপত্র আদান-প্রদান করা হয়। বিশেষ করে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে উত্তরপত্র ও প্রশ্নপত্র পরিবহনে ডাক বিভাগের সেবা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ডাক বিভাগের বিদ্যমান সেবাগুলো ব্যবহারে আরও উৎসাহিত হওয়া উচিত। সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এসব সেবার প্রচার ও প্রসার বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রতিবছরের ৯ অক্টোবর বিশ্ব ডাক দিবস পালন করা হয়।
