অপ্রতিম হত্যায় আইফোন ছাড়াও অন্য কারণ খতিয়ে দেখার দাবি কুবি শিক্ষার্থীদের

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তদন্তে এখনও আইফোনকেন্দ্রিক বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, শিক্ষার্থীদের দেওয়া ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা পার হলেও হত্যাকাণ্ডের পেছনে আইফোন ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যের বাইরে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ সন্তোষজনক কোনো তথ্য দিতে পারেনি।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ১২ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এ সময় তারা তদন্তের অগ্রগতি প্রকাশ, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের ব্যাখ্যাসহ হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য সব কারণ খতিয়ে দেখার দাবি জানান।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গতকাল ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সন্তোষজনক তথ্য দেওয়ার জন্য পুলিশকে সময়সীমা দেওয়া হলেও সোমবার দুপুর ১২টা পার হওয়ার পরও পুলিশ নতুন কোনো স্পষ্ট তথ্য বা জবাব দিতে পারেনি। বরং শুরু থেকেই আলোচনায় থাকা আইফোনকেন্দ্রিক বিষয়টিকেই তদন্তের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে সামনে রাখা হচ্ছে। এতে তদন্তের পরিধি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে জানান তারা।
শিক্ষার্থীদের ১২ দফা দাবি–ঘটনাস্থলে পুলিশের পৌঁছাতে বিলম্ব ও তদন্তের বিভিন্ন ধাপ নিয়ে ওঠা প্রশ্নের ব্যাখ্যা, জিডির পর অনুসন্ধান কার্যক্রমের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ, কথিত হত্যাস্থলে ফরেনসিক কার্যক্রমের বিষয়টি খতিয়ে দেখা, প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত, আনাসকে আটক ও পরবর্তী সময়ে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি পরিষ্কার করা, আসামিদের বয়স নির্ধারণে আইনানুগ অসিফিকেশন টেস্ট ও প্রতিবেদন প্রকাশ, আসামিদের বিরুদ্ধে পূর্বের অপরাধ ও রাজনৈতিক আশ্রয়ের অভিযোগ যাচাই, সম্ভাব্য রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা তদন্ত, ‘কেজিবি গ্যাং’সহ কিশোর গ্যাং ও মাদকসংশ্লিষ্ট অপরাধের বিষয়ে তদন্ত, আইফোনকেন্দ্রিক কারণের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের অন্যান্য সম্ভাব্য কারণ অনুসন্ধান, শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবির বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য এবং ‘ব্যাড প্যারেন্টিং’ প্রসঙ্গের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের তদন্তের কোনো সম্পর্ক আছে কি না তা যাচাই করা।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের তদন্তে কোনো সম্ভাব্য কারণ বা সংশ্লিষ্টতাকে বাদ না দিয়ে সবদিক খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তদন্তের অগ্রগতি ও সংশ্লিষ্ট তথ্য স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করে দ্রুত হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানাচ্ছি।
