ঢাবির নিকাব পরা শিক্ষার্থীকে হেনস্তার অভিযোগ, ৭ দফা দাবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইংরেজি বিভাগের নিকাব পরা এক শিক্ষার্থীকে হেনস্তা ও ‘সন্ত্রাসী’ অপবাদ দেওয়ার প্রতিবাদে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রী সংস্থা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে মানববন্ধন শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (প্রশাসন) বরাবর ৭ দফা দাবি সংবলিত একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা নিকাব ও হিজাব পরিধানকে একজন শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত ও ধর্মীয় অধিকার হিসেবে উল্লেখ করে এই ধরনের হেনস্তা, কটাক্ষ ও হুমকির তীব্র নিন্দা জানান। একইসঙ্গে ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে স্পষ্ট একাডেমিক নীতিমালা প্রণয়নের দাবি তোলেন।
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থার ঢাবি শাখার সভানেত্রী সাবিকুন্নাহার তামান্না বলেন, '২৪-পরবর্তী বাংলাদেশে সব ক্ষেত্রে সমতা ও ন্যায্যতার প্রত্যাশা ছিল। অথচ যে ক্যাম্পাস থেকে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান শুরু হয়েছিল, সেখানেই ফ্যাসিবাদের পুরোনো ধারায় হিজাব-নিকাবকে টার্গেট করে শিক্ষার্থীদের হেনস্তা করা হচ্ছে। ধর্মীয় অধিকার ও অনুভূতির ওপর আঘাত হানে এমন কোনো আচরণ মেনে নেওয়া হবে না; অধিকার আদায়ে আমাদের প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে।'
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থার ঢাবি শাখার সেক্রেটারি আফসানা আক্তার বলেন, 'আমরা কোনো বিশেষ সুবিধা বা অনুগ্রহ চাইতে আসিনি, নিজেদের বৈধ অধিকারের দাবি জানাচ্ছি। তদন্ত কমিটির নামে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত বাস্তবায়ন চাই। ধর্মীয় বিষয়ে কোনো শিক্ষক কটূক্তি করলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা একাডেমিক নীতিমালায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে।'
মানববন্ধন শেষে নেতারা দ্রুত সময়ে সাত দফা দাবি মেনে নিয়ে ক্যাম্পাসে সব শিক্ষার্থীর ধর্মীয় ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।
