রাকসুর টাকা উত্তোলন ও ব্যয় নিয়ে বিতর্ক, ব্যাখ্যা দিলেন ভিপি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) ফান্ড থেকে এক কোটি ২৯ লাখ টাকা উত্তোলন এবং এর মধ্যে ৬১ লাখ টাকার ভাউচার জমা না দেওয়ার অভিযোগে প্রকাশিত প্রতিবেদন নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদ। তার দাবি, রাকসুর আর্থিক হিসাব এখনও চূড়ান্তভাবে বন্ধ হয়নি। অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিত্তিতে রাকসুকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ৪২টি কর্মসূচির বিপরীতে রাকসু ফান্ড থেকে এক কোটি ২৯ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে এবং এর মধ্যে ৬১ লাখ টাকার কোনো ভাউচার জমা দেওয়া হয়নি।
প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর রাকসু নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ লেখেন, প্রতিটি ছাত্রসংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার সময়ে তাদের ব্যর্থ ও বিতর্কিত করার এক ধরনের অপচেষ্টা চালানো হয়। আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে এমন প্রশ্ন উঠতে পারে তা তারা আগে থেকেই জানতেন। তিনি বলেন, রাকসুর সব হিসাব-নিকাশ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে প্রস্তুত রাখা রয়েছে। অসম্পূর্ণ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে অসত্য প্রচার চালানো পেশাদারিত্বের পরিপন্থী।
এক কোটি ২৯ লাখ টাকা উত্তোলনের তথ্যকে সম্পূর্ণ অসত্য দাবি করে রাকসু ভিপি বলেন, রাকসুর সব অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে সভাপতি ও কোষাধ্যক্ষসহ কয়েক ধাপে অনুমোদন ও স্বাক্ষর নিতে হয়। এখতিয়ারবহির্ভূত কোনো খাতে অর্থ ব্যয় করা হলে কোনো না কোনো ধাপে নিশ্চিতভাবেই বাধার মুখে পড়তে হতো। প্রতিটি বাজেট উত্তোলনের বিপরীতে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের স্বাক্ষর সংরক্ষিত রয়েছে।
রাকসুর আর্থিক কার্যক্রমের সঠিক চিত্র অডিটের পরই স্পষ্ট হবে জানিয়ে ভিপি বলেন, ছাত্রসংসদের মেয়াদ শেষে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ অডিট অনুষ্ঠিত হবে। সেই অডিট প্রতিবেদন শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে প্রকাশ করা হবে। অডিটেই স্পষ্ট হবে যে রাকসুর অর্থ পরিচালনায় কোনো ধরনের দুর্নীতি হয়েছে কি না।
হিসাব চূড়ান্ত হওয়ার আগেই এভাবে বিচ্ছিন্ন ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ না করে অডিট রিপোর্ট পর্যন্ত অপেক্ষা করার আহ্বান জানান তিনি।
অডিটে কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে তা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাকসু ভিপি বলেন, অডিটে যদি এমন কোনো ব্যয়ের হিসাব উঠে আসে, যা রাকসু প্রতিনিধিদের খরচ করার এখতিয়ার ছিল না—তবে সেই অর্থ তারা ফেরত দিতে বাধ্য থাকবেন।
রাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিরা কোনো পারিশ্রমিক নেন না উল্লেখ করে মোস্তাকুর রহমান জাহিদ দাবি করেন, তারা প্রতিনিধি হিসেবে কেবল স্বেচ্ছাশ্রম দিচ্ছেন এবং ব্যক্তিগতভাবে কোনো পারিশ্রমিক নেওয়ার কোনো সুযোগ বা এখতিয়ার তাদের নেই। অডিট রিপোর্টে রাকসুর কোনো প্রতিনিধির নামে এক টাকাও ব্যক্তিগতভাবে পকেটে নেওয়ার প্রমাণ মিলবে না।
নিজের দাপ্তরিক খরচের বরাদ্দের বিষয়ে তিনি বলেন, রাকসু থেকে তার দাপ্তরিক খরচের জন্য পাঁচ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও তিনি সাড়ে তিন লাখ টাকা তুলেছেন। অর্থ উত্তোলনের তথ্য প্রতিবেদনে এলেও ফেরত দেওয়ার বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। এছাড়া অনেক কর্মসূচিতে রাকসু ফান্ডের অর্থ ব্যবহারই করা হয়নি। যেমন—ইফতার মাহফিলের ১২ লাখ টাকা রাকসু ফান্ড থেকে নেওয়া হয়নি। হিসাব চূড়ান্ত না হওয়ায় যৌক্তিক বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও তার দাপ্তরিক খরচের একটি অংশ রাকসুকে ফেরত দেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
সাধারণ শিক্ষার্থীদের অর্থকে ‘আমানত’ হিসেবে উল্লেখ করে মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, রাকসুতে যেভাবে তারা এসেছিলেন, ঠিক সেভাবেই সততার সঙ্গে ফিরে যাবেন। গত এক বছরে রাকসুর এক টাকাও প্রতিনিধিদের ব্যক্তিগত পকেটে ঢোকেনি বলেও দাবি করেন তিনি।



