শিক্ষার্থী বাড়লেও বাড়েনি বাস, ভোগান্তিতে নোবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা

শিক্ষার্থী সংখ্যা বাড়লেও সেই অনুপাতে পরিবহন বহর না বাড়ায় নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) যাতায়াত ব্যবস্থায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রায় ১ হাজার ৪০০ নতুন শিক্ষার্থী যুক্ত হওয়ায় সকাল ও বিকেলের শিফটে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসগুলোতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত আবাসিক হল না থাকায় অধিকাংশ শিক্ষার্থী নোয়াখালী শহর ও আশপাশের এলাকা থেকে প্রতিদিন ক্যাম্পাসে যাতায়াত করেন। ফলে শহরের বিভিন্ন স্টপেজ থেকেই বাসগুলোতে ব্যাপক ভিড় দেখা যায়। অনেক সময় মধ্যবর্তী ও শেষের স্টপেজের শিক্ষার্থীরা বাসে ওঠার মতো জায়গাও পান না। বাধ্য হয়ে কেউ কেউ ডাবলডেকার বাসের সিঁড়িতে ঝুলে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পরিবহন বহরে একটি নতুন বাস যুক্ত হলেও শিক্ষার্থীদের তুলনায় তা অপ্রতুল বলে মনে করছেন তারা। শিক্ষার্থীদের দাবি, দ্রুত আরও বাস সংযোজন করে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিত করা হোক।
আইন বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাইম ইমরান বলেন, সম্প্রতি ডাবলডেকার বাসে ক্যাম্পাসে যাওয়ার সময় বাসটি রাস্তার পাশের একটি খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা লেগে থেমে যায়। বাসের কাছেই খাল থাকায় ওই সময় বাসে থাকা সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
একই ধরনের ভোগান্তির কথা জানান শিক্ষার্থী তিথি। তিনি বলেন, একজন মেয়ে হয়েও সকালের শিফটে বাধ্য হয়ে ডাবলডেকারের সিঁড়িতে ঝুলে ক্লাসে যেতে হয়। ক্লাস শেষে ২০ মিনিট আগে গিয়েও সিট মেলে না। এই ভোগান্তি ও মানসিক যন্ত্রণার পর আর ক্লাসে মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হয় না।
পরিবহন সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে নোবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, আমরা আরও বাস সংযোজনের জন্য কাজ করছি। পূবালী ব্যাংকের সঙ্গে কথা বলেছি; তাদের একটি গাড়ি স্পন্সর করতে বলেছি। প্রয়োজন হলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও কিছু টাকা দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, বিআরটিসির চেয়ারম্যানের সঙ্গে নতুন দুটি গাড়ির বিষয়ে কথা বলেছি। একটি গাড়ি ঠিক করতে পাঠিয়েছিলাম, সেটি আগামী সপ্তাহে আসবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের যে গাড়িটি বর্তমানে অচল রয়েছে, সেটিও ঠিক করতে পাঠাব।



