logo
Advertisement

জাবির জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামে মতভেদ প্রকাশ্যে

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ,জাবি
জাবির জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামে মতভেদ প্রকাশ্যে
ছবি: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত একটি বিবৃতি প্রত্যাখ্যানের পর জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংগঠনটির সহসভাপতি অধ্যাপক ড. ছালেহ আহাম্মদ খান। সভাপতির প্রত্যাখ্যান বিবৃতির পরিপ্রেক্ষিতে ফেসবুক মন্তব্যের মধ্য দিয়ে সংগঠনটির ভেতরের মতভেদ প্রকাশ্যে এসেছে।

৬ সেপ্টেম্বর জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম এক প্রত্যাখ্যান বিবৃতিতে বলেন, জাবির বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানকে নিয়ে ‘বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ’ শিরোনামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত একটি বিবৃতি তার নজরে এসেছে।

ওই বিবৃতিতে সভাপতি হিসেবে স্বাক্ষর ব্যবহার করা হলেও তা তার সম্মতি ও অনুমোদন ছাড়াই প্রচার করা হয়েছে।

প্রত্যাখ্যান বিবৃতিতে অধ্যাপক শামছুল আলম আরও বলেন, এ বিষয়ে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি। বিষয়টি বিশদভাবে খতিয়ে দেখে এবং সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে অতিদ্রুত ফোরামের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হবে।

ইতিমধ্যে প্রচারিত বক্তব্যকে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের অবস্থান হিসেবে গণ্য না করার জন্যও সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানান ।

এরপর সভাপতির ওই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ফেসবুকে মন্তব্য করেন জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সহসভাপতি অধ্যাপক ড. ছালেহ আহাম্মদ খান।

শুধু সভাপতি মানেই ফোরাম না, আবার শুধু সাধারণ সম্পাদক মানেই ফোরাম না। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দুজনকেই আমরা ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছি।

আর বলেন, ভোটার মাধ্যমে নির্বাচিত ফোরামের একটি কার্যনির্বাহী কমিটি আছে। সভাপতির বক্তব্য দেখে মনে হচ্ছে সভাপতি মানেই পুরো ফোরাম। এটা কি ঠিক?

সহসভাপতির এই মন্তব্যের মাধ্যমে ফোরামের সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং সভাপতির বক্তব্য পুরো সংগঠনের অবস্থানকে প্রতিনিধিত্ব করে কি না—সে প্রশ্ন সামনে এসেছে।

এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিবৃতিতে জাবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানকে ‘সাদা দলের শিক্ষক’ হিসেবে উল্লেখ করার প্রতিবাদ জানানো হয়। ওই বিবৃতিতে দাবি করা হয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সাদা দল’ নামে কোনো শিক্ষক সংগঠন নেই এবং বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সাংগঠনিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে সেখানে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম রয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অধ্যাপক কামরুল আহসান জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত এবং ২০২৪ সালে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে পরে সংগঠনটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম ওই বিবৃতিতে তার স্বাক্ষর ব্যবহারের বিষয়টি অস্বীকার করে তা প্রত্যাখ্যান করেন।

এর পর সভাপতির প্রত্যাখ্যান বিবৃতি এবং সহসভাপতির প্রকাশ্য প্রশ্নকে কেন্দ্র করে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের ভেতরে ভিন্ন অবস্থান ও মতভেদের বিষয়টি সামনে এসেছে।

সম্প্রতি বেসরকারি টেলিভিশন এটিএন নিউজের টকশোতে উপস্থাপক মাশায়েখ শশীর সঞ্চালনায় অধ্যক্ষ সৈয়দ আব্দুল আজিজ ও ড. মারুফ মল্লিক অংশ নেন। এ সময় উপাচার্যকে সাদা দলের এবং ভিন্ন সংগঠনের ইঙ্গিত করে বক্তব্য দেন আলোচকরা।