প্রধানমন্ত্রীর কাছে নোবিপ্রবি শিক্ষার্থীর খোলা চিঠি

দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগপ্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ, যোগ্যতাভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত করার দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর খোলা চিঠি দিয়েছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ফলিত রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী নাসরিন আক্তার।
শিক্ষক পদপ্রত্যাশীদের পক্ষে দেওয়া ওই খোলা চিঠিতে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নিয়োগ সম্পূর্ণভাবে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে সম্পন্ন করার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির সরাসরি শিক্ষক নিয়োগের সুযোগ বাতিল বা সীমিত করার আহ্বান জানানো হয়।
চিঠিতে নাসরিন আক্তার বলেন, শিক্ষা একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রধান ভিত্তি এবং শিক্ষার মান অনেকাংশেই নির্ভর করে যোগ্য, দক্ষ ও মেধাবী শিক্ষক নিয়োগের ওপর। তাই শিক্ষক নিয়োগে ব্যক্তিগত প্রভাব, স্থানীয় চাপ, স্বজনপ্রীতি কিংবা অনৈতিক হস্তক্ষেপের কোনো সুযোগ থাকা উচিত নয়।
চিঠিতে এনটিআরসিএর মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলা হয়, জাতীয় পর্যায়ে পরীক্ষা ও নিবন্ধনের মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থী বাছাই করা হলে শিক্ষক নিয়োগে মেধা ও যোগ্যতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া সম্ভব হবে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ও নিয়মতান্ত্রিক নিয়োগব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যক্তিগত পরিচয়, প্রভাব বা সুপারিশের সুযোগ কমানো সম্ভব বলে উল্লেখ করা হয়।
নাসরিন বলেন, অনলাইনে আবেদন, মেধাক্রম, শূন্য পদের তথ্য এবং নিয়োগ সুপারিশের মাধ্যমে একটি অধিকতর যাচাইযোগ্য ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। জাতীয় মানদণ্ডের ভিত্তিতে শিক্ষক নির্বাচন করা হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যোগ্য শিক্ষক নিয়োগের সম্ভাবনাও বাড়বে।
চিঠিতে বলা হয়, একজন চাকরিপ্রার্থী যেন বিশ্বাস করতে পারেন চাকরি পাওয়ার প্রধান ভিত্তি হবে তার মেধা, যোগ্যতা ও পরীক্ষার ফল; ব্যক্তিগত পরিচয় বা আর্থিক সক্ষমতা নয়। এতে চাকরিপ্রত্যাশীদের মধ্যে নিয়োগব্যবস্থা সম্পর্কে আস্থা তৈরি হবে বলেও উল্লেখ করা হয়।
নাসরিন উল্লেখ করেন, এনটিআরসিএ বর্তমানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে ই-রেজিস্ট্রেশন, ই-রিকুইজিশন ও নিয়োগ সুপারিশের মতো কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এই কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করে একটি একক, স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।
তবে ম্যানেজিং কমিটির ভূমিকা পুরোপুরি বিলুপ্ত না করে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রশাসনিক বিষয় এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় স্থানীয় ব্যবস্থাপনায় তাদের ভূমিকা রাখার সুযোগ রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু শিক্ষক নিয়োগের মূল সিদ্ধান্ত ও সুপারিশ একটি নিরপেক্ষ জাতীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে হওয়া উচিত বলে দাবি করেন এই নোবিপ্রবির এই শিক্ষার্থী।
প্রধানমন্ত্রী বরাবর খোলা চিঠিতে ছয়টি দাবি তুলে ধরেন নাসরিন আক্তার। তার দাবিগুলো হলো বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নিয়োগ এনটিআরসিএর মাধ্যমে বাধ্যতামূলক করা, ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির সরাসরি শিক্ষক নিয়োগের সুযোগ বাতিল বা সীমিত করা, শিক্ষক নিয়োগে মেধা, যোগ্যতা ও জাতীয় মানদণ্ডকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া, শূন্য পদের তথ্য ও নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও স্বচ্ছ করা, নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক লেনদেন প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক হওয়ার অপেক্ষায় থাকা নিবন্ধনধারী যোগ্য প্রার্থীদের জন্য নিয়মিত ও দ্রুত নিয়োগ কার্যক্রম নিশ্চিত করা।
চিঠির শেষাংশে তিনি বলেন, স্বচ্ছ শিক্ষক নিয়োগ মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার পথে একটি বড় পদক্ষেপ। একজন যোগ্য শিক্ষক শুধু একজন শিক্ষার্থীকে নয়, একটি প্রজন্মকে আলোকিত করতে পারেন। তাই শিক্ষক নিয়োগে কোনো ধরনের বৈষম্য বা অনৈতিক প্রভাবের সুযোগ না রেখে আধুনিক, স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সময়ের দাবি।
প্রধানমন্ত্রীর সদয় হস্তক্ষেপে দেশের বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগ ব্যবস্থা আরও স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও জনবান্ধব হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন নাসরিন আক্তার।
.png)


