ইনানীতে রিসোর্টে আগুনে নিহত ১০ জনের ৭ জনই জবি শিক্ষার্থীর স্বজন

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে একটি রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন ১০ জন। নিহতদের মধ্যে ৭ জন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী আবদুল আহাদ সরকারের পরিবারের সদস্য বলে জানা গেছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন পাটুয়ারটেক সৈকতের টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে প্রাথমিকভাবে ছয়জনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭), চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) এবং পাঁচ বছর বয়সি ফায়িজান আহম্মেদ। এ ছাড়া নাফিজ ও নাবিলা নামের আরও দুজনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নিহতদের সবার পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আবদুল আহাদ সরকার এশিয়া পোস্টকে জানান, অগ্নিকাণ্ডে তাদের পরিবারের ছয়জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে তার চারজন নারী কাজিন, একজন পুরুষ কাজিন এবং এক কাজিনের পাঁচ বছর বয়সি সন্তান ফাইয়াজ রয়েছে। নাফিজ ও নাবিলাও তাদের আত্মীয়। তারা আহাদের মায়ের ফুফাতো বোনের পরিবারের সদস্য।
আহাদ আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডে আহত তাদের পরিবারের তিনজন বর্তমানে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দুর্ঘটনার পর তাদের পরিবারের পরিস্থিতি ভালো নয় বলেও জানান তিনি।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল ৭টার দিকে রিসোর্টটিতে আগুন লাগার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। তাদের প্রচেষ্টায় বেলা ১১টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর রিসোর্টের ভেতরে উদ্ধার অভিযান চালানো হয়।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ এশিয়া পোস্টকে জানান, রিসোর্টটির ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স ছিল না। গত জুনে পরিদর্শনের পর প্রতিষ্ঠানটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে সতর্কতামূলক নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। এরপরও রিসোর্টটির কার্যক্রম চালু ছিল।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে তদন্তকমিটি গঠন করা হয়েছে। আগুনের সূত্রপাত, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি ও ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত জানতে তদন্ত চলছে।
