ববি ছাত্রদলের দুই নেতাকে ‘ডাকাত’ বলে বেধড়ক পিটুনি

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) সংলগ্ন এলাকায় নারীঘটিত বিষয়কে কেন্দ্র করে স্থানীয় একটি পরিবারের হাতে মারধরের শিকার হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের দুই নেতা। পরবর্তীতে তাদের উদ্ধারে গিয়ে ওই পরিবারের ওপর পাল্টা হামলা ও বাড়িঘর তছনছ করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুপক্ষের অন্তত চারজন আহত হয়েছেন।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও চরকাউয়া ইউনিয়নের সংরক্ষিত ইউপি সদস্য শিল্পী বেগমের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
আহত ছাত্রদল নেতারা হলেন—বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক পিয়াস আহমেদ রিফাত ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল মোল্যা। অন্যদিকে স্থানীয়দের মধ্যে ইউপি সদস্য শিল্পী বেগম, তার ছেলে আরমান ও জামাতা রিয়াজ আহত হয়েছেন।
ভুক্তভোগী ছাত্রদল নেতাদের দাবি, রোববার রাতে ছাত্রদলের তিন নেতা পিয়াস আহমেদ রিফাত, আশরাফুল মোল্ল্যা ও রায়হান বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় হাঁটাহাঁটি করছিলেন। এ সময় রহিমের বাড়ির একটি কক্ষে দুই নারী ও এক যুবককে প্রবেশ করতে দেখে বিষয়টি তাদের সন্দেহজনক মনে হয়। পরে তারা ওই ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে তাদের পূর্বপরিচিত রহিমের জামাতা রিয়াজ মোল্লা তাদের বাসার ভেতরে নিয়ে যান। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ওই ব্যক্তিদের অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়টি তারা জানতে পারেন বলে দাবি করেন। পরে অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসার প্রস্তাব দেওয়া হলে তারা প্রত্যাখ্যান করেন বলে জানান।
ছাত্রদল নেতাদের অভিযোগ, এরপর রহিমের জামাতা রিয়াজ ও ছেলে আরমান ‘ডাকাত’ বলে চিৎকার শুরু করেন। একপর্যায়ে তাদের দড়ি দিয়ে বেঁধে ঘরে আটকে মারধর করা হয়। সঙ্গে থাকা ছাত্রদল নেতা রায়হান ঘটনাস্থল থেকে বের হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য নেতাকর্মীদের খবর দেন। পরে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই নেতাকে উদ্ধার করেন। এ সময় স্থানীয় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাদের মারামারি হয় বলে উভয়পক্ষই জানিয়েছে।
আহত ছাত্রদল নেতা আশরাফুল মোল্ল্যা বলেন, অর্থের বিনিময়ে মীমাংসার প্রস্তাব দেওয়া হলে আমরা প্রত্যাখ্যান করি। পরে আমাদের দেখিয়ে দেওয়ার কথা বলে ‘ডাকাত ডাকাত’ বলে চিৎকার শুরু করে। একপর্যায়ে আমাদের বেঁধে বেধড়ক মারধর করা হয়। রায়হান বের হয়ে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ডেকে এনে আমাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
স্থানীয় বাসিন্দা রহিম মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের এসব শিক্ষার্থী ডাকাতির উদ্দেশ্যে বাইরে থেকে মেয়ে এনে ঘরে ঢুকিয়ে দেয়। আমাদের জিম্মি করে তারা ডাকাতি করতে চেয়েছিল। আমরা তাদের প্রতিহত করেছি। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়েছে।
রহিমের দাবি, ছাত্রদল নেতাকর্মীরা চলে যাওয়ার সময় তাদের বাড়িঘর তছনছ এবং বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে গেছেন। তার স্ত্রী ও জামাতা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন বলেও জানান তিনি। ভয়ে তিনি বাড়ির বাইরে অবস্থান করছেন বলে দাবি করেন।
৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জুয়েল হোসেন বলেন, চিৎকার শুনে রাতে ঘুম থেকে উঠে মারামারির ঘটনা দেখি। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী এসে বাড়িঘর লুটপাট করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্রদল নেতা পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সময় পরীক্ষার ফরম পূরণের নামে চাঁদা দাবি করেছেন। বিষয়টি নিয়ে ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে কথা বললে তারা এসব টাকা দিতে নিষেধ করেছেন বলেও জানান তিনি।
এদিকে ঘটনাটির সঙ্গে মাদকের অর্থসংক্রান্ত লেনদেনের বিষয় জড়িত থাকার গুঞ্জন থাকলেও উভয়পক্ষই অস্বীকার করেছে।
বরিশাল বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, খবর পেয়ে আমাদের টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আহত একজনকে উদ্ধার করে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এখনও কোনো পক্ষ মামলা করেনি। মামলা হলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


