নোবিপ্রবিতে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন বহাল

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ছাত্ররাজনীতি পুনরায় চালুর বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদ রিজেন্ট বোর্ড। ফলে ক্যাম্পাসে রাজনীতি নিষিদ্ধসংক্রান্ত আগের অফিস আদেশ ও প্রজ্ঞাপনই বহাল থাকছে।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭০তম রিজেন্ট বোর্ড সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নিয়ে তা পরবর্তী সভা পর্যন্ত পর্যবেক্ষণে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রিজেন্ট বোর্ড সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) অনুষ্ঠিত ৭০তম সভার আলোচ্যসূচিতে (এজেন্ডা) নোবিপ্রবিতে রাজনীতি চালু বা নিষিদ্ধের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। সভায় উপস্থিত সদস্যদের মাঝে এ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখে পরবর্তী রিজেন্ট বোর্ড সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়ে ঐকমত্য হয়।
জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর ৪৫তম রিজেন্ট বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সব ধরনের দলীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়। সেই আদেশে বলা হয়েছিল, প্রতিষ্ঠার পরবর্তী ২০ বছর ক্যাম্পাসে কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রম চালানো যাবে না। গত ২২ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ বছর পূর্ণ হওয়ায় সেই মেয়াদ শেষ হয়। এর পরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি ছাত্রসংগঠন রাজনীতি পুনর্বহালের দাবিতে প্রশাসনকে স্মারকলিপি দেয়।
তবে এর আগেই ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট অনুষ্ঠিত রিজেন্ট বোর্ডের এক জরুরি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ক্যাম্পাসে সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
পরবর্তী আদেশে উল্লেখ করা হয়, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে কোনো শিক্ষার্থী প্রকাশ্য বা অপ্রকাশ্যে কোনো দলীয়, অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হতে পারবেন না। একই সঙ্গে নোবিপ্রবি আইন ২০০১-এর ধারা ৪৭ (৫ ও ৬) অনুযায়ী শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরও দলীয় রাজনীতি ও মতাদর্শ প্রচার নিষিদ্ধ রাখা হয়।
এ বিষয়ে নোবিপ্রবির উপাচার্য (রুটিন দায়িত্ব) ও রিজেন্ট বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, নোবিপ্রবিতে ছাত্ররাজনীতি চালুর বিষয়টির অগ্রগতি ৭০তম রিজেন্ট বোর্ড সভার এজেন্ডায় ছিল। তবে সভায় কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি পরবর্তী রিজেন্ট বোর্ড সভা পর্যন্ত পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তৎকালীন জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত নোবিপ্রবিতে সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধই থাকছে।
.png)






