ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ‘ইকোনথন ২০২৬’ অনুষ্ঠিত

ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) অর্থনীতি বিভাগের সহযোগিতায় এবং জুনিয়র ইকোনমিস্টস ফোরামের (জেইএফ) উদ্যোগে জাতীয় আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় অর্থনীতি বিষয়ক প্রতিযোগিতা ‘ইকোনথন ২০২৬’-এর গ্র্যান্ড ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় ইউআইইউ ক্যাম্পাসে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২২৪টি দল ‘ইকোনথন ২০২৬’-এ নিবন্ধন করে। পাঠ্যবইয়ের গণ্ডি পেরিয়ে শিক্ষার্থীদের বিশ্লেষণী চিন্তা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা, পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর ক্ষমতা এবং অর্থনৈতিক যুক্তিবোধ বিকাশের সুযোগ তৈরি করাই এ প্রতিযোগিতার উদ্দেশ্য। বাস্তব জীবনের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষালব্ধ জ্ঞান সৃজনশীল ও সমালোচনামূলকভাবে প্রয়োগ করতে অংশগ্রহণকারীদের উৎসাহিত করে এ আয়োজন।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, শ্রেণিকক্ষের বাইরেও শিক্ষার্থীদের বিশ্লেষণ ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বিকাশে ‘ইকোনথন’ একটি চমৎকার মঞ্চ। অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ অনুধাবন করতে এবং দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে সক্ষম মেধাবী ও উদ্ভাবনী তরুণদের গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, সবকিছু একদিনে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তবে এসব লক্ষ্য অর্জনে দৃঢ়ভাবে কাজ করে যেতে হবে। একই সঙ্গে তিনি শিক্ষার্থীদের তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে নীতি ও চিন্তাভাবনা গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
অর্থনমন্ত্রী আরও বলেন, কোনো নীতি কাগজে সুন্দর দেখালেই যথেষ্ট নয়। সেটি বাস্তবায়নযোগ্য কি না, কত ব্যয় হবে, কারা উপকৃত হবে এবং শেষ পর্যন্ত সেই ব্যয়ের বোঝা কার ওপর পড়বে, এসব বিষয়ও বিবেচনা করা জরুরি।
‘ইকোনথন’-এর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, প্রতিযোগিতায় বিচারকেরা যেমন অংশগ্রহণকারীদের ধারণার বাস্তবায়নযোগ্যতা মূল্যায়ন করেছেন, সরকারকেও প্রতিদিন বিভিন্ন নীতি ও উদ্যোগের বাস্তবতা এবং সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনা করতে হয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘ইকোনথন’-এর উদ্দেশ্য টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) ৮, ১০ ও ১৭-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত। এসব লক্ষ্যমাত্রায় যথাক্রমে শোভন কাজ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বৈষম্য হ্রাস এবং লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অংশীদারত্বের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সম্মানিত অতিথি ইউআইইউ বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ও ইউনাইটেড গ্রুপের প্রধান উপদেষ্টা হাসান মাহমুদ রাজা বলেন, শিক্ষা পাঠ্যবই ও শ্রেণিকক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। তার মতে, এই প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জে নিজেদের জ্ঞান প্রয়োগ, সমালোচনামূলক চিন্তা এবং উদ্ভাবনী সমাধান তৈরিতে সহায়তা করবে।
ইউআইইউর উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল কাশেম মিয়া বলেন, ‘ইকোনথন ২০২৬’ শিক্ষার্থীদের সমালোচনামূলক চিন্তা, সমস্যা সমাধান ও ব্যবহারিক দক্ষতা গড়ে তোলার প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের অঙ্গীকারের প্রতিফলন। তিনি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী এবং সফল আয়োজনের জন্য জুনিয়র ইকোনমিস্টস ফোরামকে (জেইএফ) অভিনন্দন জানান।
‘ইকোনথন ২০২৬’ প্রতিযোগিতায় মোট ২ লাখ ৬৫ হাজার টাকার পুরস্কার ছিল। প্রতিযোগিতায় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ভিনি বিডি ভিসি’ দল গ্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন হয়ে ১ লাখ টাকা পেয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সেল্ড’ দল প্রথম রানারআপ হয়ে পেয়েছে ৭৫ হাজার টাকা। ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ‘ঢাকা ৯৯’ দল দ্বিতীয় রানারআপ হয়ে পেয়েছে ৫০ হাজার টাকা। পিপলস চয়েস দল সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটিসহ অন্যান্য অংশগ্রহণকারী দল প্রত্যেকে ২০ হাজার টাকা পেয়েছে। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য কোনো রেজিস্ট্রেশন ফি ছিল না।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউআইইউ বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য ও ইউনাইটেড গ্রুপের উপদেষ্টা কে এম এ শামীম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইউআইইউর অর্থনীতি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. ওমর ফারুক। এ সময় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, প্রতিযোগী, শিক্ষার্থী, অর্থনীতিবিদ এবং অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথি উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিযোগিতাটির পাওয়ার্ড স্পন্সর ছিল ইউনাইটেড ফাইন্যান্স। গোল্ড স্পন্সর ছিল ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, প্লাটিনাম স্পন্সর ছিল ব্র্যাক ব্যাংক এবং ব্রোঞ্জ স্পন্সর ছিল বনটন ফুডস।
