logo

রাবি শিক্ষার্থীদের সাথে রেলকর্মীদের দ্বন্দ্ব,/ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় বারবার এমন সাহস পাচ্ছে: রাবি উপাচার্য


দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় বারবার এমন সাহস পাচ্ছে: রাবি উপাচার্য
রাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম। ছবি: এশিয়া পোস্ট

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রেলওয়ে কর্মীদের সংঘাতের বিষয়ে রাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, অতীতের কোনো ঘটনায় সুস্পষ্ট ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় তারা বারবার এমন সাহস পাচ্ছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টায় রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে দুই শিক্ষার্থীকে মারধরের বিষয়ে এশিয়া পোস্টের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, রাবির শিক্ষার্থী পরিচয় পেলেই রেলকর্মীদের আচরণ আক্রমণাত্মক হয়ে উঠছে। তবে হঠাৎ করে এমন সংঘাত তৈরি হওয়ার পেছনে কারণ কী, রেলকর্মীদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বিরোধের সূত্রপাত কোথায় এবং সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না তা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন।

শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা গেছে, রসিদ ছাড়া টাকা আদায়ের প্রতিবাদের জেরে ২১ জুলাই ফোরকান উদ্দীন নামের এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার প্রতিবাদে পরদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা এলাকায় রেলপথ অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা চার দফা দাবি জানান। পরে রাজশাহী রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর দাবিগুলো মেনে নেওয়া হলে প্রায় আট ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেন শিক্ষার্থীরা। ওই ঘটনায় অভিযুক্ত টিটিইকে বরখাস্ত করা হয়।

এরপর ১৭ সেপ্টেম্বর চেইন টানাকে কেন্দ্র করে মৃন্ময় চক্রবর্তী নামের আরেক শিক্ষার্থীকে হেনস্তা করা হয়।

সর্বশেষ গত রোববার রাতে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে দুই শিক্ষার্থীকে মারধর ও প্রতিবাদ জানাতে যাওয়া শিক্ষার্থী আইয়ুব আলীকে বেধড়ক পেটানোর অভিযোগ ওঠে। আইয়ুব বর্তমানে হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা স্টেশনে ভাঙচুর চালালে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে।

এ বিষয়ে রাবির ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী রিদোয়ান হাসান জানান, আমার বন্ধুর গায়ে রাবির লোগোযুক্ত টি-শার্ট দেখে রেলকর্মীদের ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়। তারা তাকে ব্যাপক মারধর করে ফেলে যায় এবং একপর্যায়ে তার গায়ে থুতু নিক্ষেপ করে। রাবির শিক্ষার্থীদের দেখলেই তারা বেপরোয়া আচরণ করছে।

রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী আসিফ হাসান এশিয়া পোস্টকে জানান, শুধু রাবির শিক্ষার্থী পরিচয় জানতে পারলেই রেলকর্মীরা আমাদের সঙ্গে বাজে আচরণ করেন। এক মাসের মধ্যেই চারবার আমাদের শিক্ষার্থীদের মারধরের ঘটনা ঘটেছে। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় দিন দিন এ ধরনের ঘটনা বাড়ছে। কোনো বিচার না পেয়ে গতকাল শিক্ষার্থীরা স্টেশনে ভাঙচুর করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান জানান, ঘটনাগুলো বেশ উদ্বেগজনক। বারবার এগুলো ঘটে যাচ্ছে। গতকালের ঘটনার পরও আমি রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে বলি। এর আগেও তাদেরকে সতর্ক করার চেষ্টা করেছি।

তিনি আরও জানান, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আমার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেনি। আমি উপযাচক হয়ে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করেছি। মনে হয়েছে এটা তাদের বিষয় না, এটা শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের। কিন্তু আমরা মনে করি, একটা জায়গায় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা তৈরি হলে তার দায় সবার, সে জায়গা থেকে সবাই মিলে সমাধান করার চেষ্টা করা উচিত। কিছু জায়গাতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের যথেষ্ট পেশাদারির অভাব রয়েছে। কর্তৃপক্ষের এ সমস্যাগুলো নিয়ে কাজ করা উচিত।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে জানান, গত এক সপ্তাহ নয়, কিছুদিন ধরেই দেখছি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একই ধরনের ঘটনা ঘটছে। অতীতের কোনো ঘটনায় সুস্পষ্ট ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় তারা বারবার এমন সাহস পাচ্ছে। এ ধরনের আচরণ থেকে তাদের অবশ্যই বেরিয়ে আসতে হবে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।