ফেসবুকে ছবি প্রকাশের পরও হদিস মিলছে না জাবিতে ধর্ষণচেষ্টার আসামির

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় দুদিন পার হলেও অভিযুক্ত যুবকের সন্ধান পায়নি প্রশাসন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ওই যুবকের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টায় ছবি প্রকাশ করেছে প্রশাসন।
শুক্রবার (১৫ মে) বিকেলে র্যাব-৪ এর কোম্পানি কমান্ডার শাহীনুর কবির অভিযুক্ত যুবকের সন্ধানে একটি খুদেবার্তা পাঠায় সাভার আশুলিয়ার স্থানীয় গনমাধ্যমকর্মীদের কাছে। বার্তায় দুইটি সিসিটিভি ফুটেজ ও একটি ছবি সরবরাহ করা হয় র্যাবের পক্ষ থেকে।
এর আগে, অভিযুক্ত যুবকের পরিচয় ও সন্ধান জানতে ছবি দিয়ে র্যাব ও পুলিশের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট করা হয়। যেখানে দেখা যায় অভিযুক্ত যুবক জাবির প্রান্তিক গেট দিয়ে কোনো বাধা ছাড়াই প্রথমে ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে আবার ঢুকছেন ক্যাম্পাসের ভিতরে। অন্য আরেকটি ফুটেজে দেখা যায়, রাত সাড়ে ৯টার দিকে ওই যুবক ক্যাম্পাসের ট্রান্সপোর্ট এলাকায় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে এদিক-ওদিক দেখছেন।
এদিকে, এ ঘটনায় আজ সন্ধ্যার দিকে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের পক্ষ থেকে। এ ছাড়া ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা জোরদারে বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে পাঁচটি পুলিশ চেকপোস্ট স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বৃহস্পতিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
মুঠোফোন বার্তায় র্যাব-৪ এর কোম্পানি কমান্ডার শাহীনুর কবির লেখেন, জাবির ঘটনায় আপনারা ভিডিও ও ছবিতে উক্ত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তের জন্য আপনাদের (সংবাদকর্মীদের) সবার সহযোগিতা কামনা করছি। আপনাদের নিজেদের ফেসবুক পেজে ভিডিও ও ছবি পোস্ট দিয়ে শনাক্তের জন্য অনুরোধ করা হলো।
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, সিসি ফুটেজের মাধ্যমে আসামির চেহারা শনাক্ত করা হয়েছে। কিন্তু আসামির নাম-পরিচয় এখনও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। আমরা চেষ্টা করছি যত দ্রুত সম্ভব আসামিকে গ্রেপ্তার করা যায়।
এর আগে, গত মঙ্গলবার (১২ মে) রাত ১১টার পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) পুরাতন ফজিলাতুন্নেসা হল ও আল-বেরুনী হলের সম্প্রসারিত অংশ-সংলগ্ন এলাকায় দিয়ে যাওয়ার পথে এক ছাত্রীকে ঝোপে টেনে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠে এক বহিরাগতের বিরুদ্ধে। পরদিন সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. জেফরুল হাসান চৌধুরী বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করে আশুলিয়া থানায় ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার মামলা করেন।
