logo
Advertisement

ইবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু ঘিরে রহস্য

ইবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু ঘিরে রহস্য
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: এশিয়া পোস্ট

বছর পেরিয়ে গেলেও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থী সাজিদ আবদুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত হয়নি। লাশ উদ্ধারের আগের রাতে (১৬ জুলাই ২০২৫) চারজনকে নিয়ে একটি ভ্যান ক্যাম্পাসে প্রবেশের দাবি করেছিলেন প্রধান ফটকে দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য পঙ্কজ। পরে তিনি ওই বক্তব্য থেকে সরে আসেন। তবে সম্প্রতি তিনি আবার ১৬ জুলাই রাতে ভ্যান প্রবেশের কথা স্বীকার করলে নতুন করে বিষয়টি আলোচনায় আসে।

এদিকে ভ্যানটির গতিবিধি শনাক্তে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানের সিসিটিভি ফুটেজও পাওয়া যায়নি। ফলে ঘটনাটির রহস্য এখনও উন্মোচিত হয়নি। জানা গেছে, ওই রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে দায়িত্বে ছিলেন কুষ্টিয়া ব্রাঞ্চের আনসার সদস্য পঙ্কজ ও তারেক।

পঙ্কজ জানান, সাজিদের লাশ উদ্ধারের আগের দিন (১৬ জুলাই) ফজরের আগমুহূর্তে চারজন ব্যক্তি একটি ভ্যান নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। ভ্যানে একজন শুয়ে ছিলেন। বাকি তিনজনের মধ্যে একজন ছিলেন মধ্যবয়সি ভ্যানচালক। অন্য দুজন নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দেন। তাদের পরনে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম-সংবলিত পোশাক ছিল।

পঙ্কজের ভাষ্য অনুযায়ী, শুয়ে থাকা ব্যক্তি ছিলেন মোটা গড়নের। অন্য দুজনের গড়নও মোটামুটি মোটা এবং গায়ের রং শ্যামলা। তারা শুয়ে থাকা ব্যক্তিকে বন্ধু বলে পরিচয় দেন এবং অসুস্থ বন্ধুকে মেডিকেলে নিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান। পরে তাদের ক্যাম্পাসে প্রবেশের অনুমতি দেন পঙ্কজ। কিছুক্ষণ পর ভ্যানটি ক্যাম্পাস থেকে বেরিয়ে যায়। তখনও ভ্যানে একজনকে শুয়ে থাকতে দেখা যায়। তবে সেটি একই ব্যক্তি কি না, তা নিশ্চিত নন তিনি।

এদিকে ভ্যানটির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করেনি বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি তদন্ত প্রতিবেদনেও বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে কমিটি ১৬ জুলাই রাতের ইবি মেডিকেল ও প্রকৌশল অফিসসংলগ্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করেছে। সেখানে এমন কোনো ভ্যান দেখা যায়নি। ওই সময়ে কেউ চিকিৎসা নিতেও যায়নি বলে জানা গেছে। এতে শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে ভ্যানটি কোথায় গিয়েছিল?

গত বছরের ১৭ জুলাই সন্ধ্যা ৬টায় শাহ আজিজুর রহমান হলের পুকুর থেকে সাজিদের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরদিন ১৮ জুলাই সকাল সাড়ে ৯টায় তার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে সাজিদের মৃত্যু ময়নাতদন্তের সময় থেকে ৩০ ঘণ্টা আগে, অর্থাৎ ১৬ জুলাই রাত সাড়ে ৩টায় হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আনসার পঙ্কজের বক্তব্য অনুযায়ীও ১৬ জুলাই ফজরের আগমুহূর্তেই ভ্যানটি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তাকে প্রথমে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এরপরে মরদেহ পানিতে ফেলা হয়েছে।

ভ্যানটির গতিপথ শনাক্তে প্রধান ফটক, প্রশাসন ভবন, অভি ক্যাপ, ডায়না চত্বর ও কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি সংলগ্ন এলাকাসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ প্রয়োজন ছিল। তবে ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি এসব ফুটেজ সংগ্রহ করতে পারেনি। এর মধ্যে প্রধান ফটকের সিসিটিভি ক্যামেরা সাজিদের মৃত্যুর দিন বিকেলে ভারী বৃষ্টির কারণে নষ্ট হয়ে যায় বলে তদন্ত কমিটির সূত্রে জানা গেছে।

পঙ্কজ বিষয়টি প্রথমে এক ক্যাম্পাস সাংবাদিককে জানিয়েছিলেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সাংবাদিক এশিয়া পোস্টকে বলেন, ১৮ জুলাই পঙ্কজ খুব আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বিষয়টি জানিয়েছিলেন। পরে আমি তদন্ত কমিটিকে বিষয়টি অবহিত করি। তার সঙ্গে কথোপকথনের একটি অডিও আমার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক মোহাব্বত হোসেন এশিয়া পোস্টকে জানান, তদন্তের গোপনীয়তার স্বার্থে প্রকাশ্যে কিছু বলা সম্ভব নয়। আমাদের সামনে আসা সব তথ্য বিবেচনায় নিয়ে যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে আরও অনেকের সঙ্গে কথা বলা হবে।

হল ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল বারী বলেন, বিষয়টি হলের বাইরের হওয়ায় হল ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির প্রতিবেদনে আনা হয়নি। তবে আমরা পঙ্কজের সঙ্গে কথা বলেছি। তার বক্তব্যে আমরা দ্বিচারিতার প্রমাণ পেয়েছি। বিষয়টি এখন রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের তদন্তের দায়িত্ব।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটিতে ভ্যানটির বিষয়ে তদন্ত করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে কমিটির আহ্বায়ক ও বর্তমান উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন বলেন, এ বিষয়ে আমি কোনো কথা বলব না। অন্য বিষয় হলে বলব। এ বিষয়ে অনেকবার কথা বলেছি।