শাবিপ্রবিতে র্যাগিং: নবীন শিক্ষার্থীদের বিকৃত যৌন অভিনয়ের অভিযোগ

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) নবীন শিক্ষার্থীদের আটকে রেখে বিভিন্ন উপায়ে র্যাগিং দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে একটি চেয়ারকে মেয়ে এবং নবীন শিক্ষার্থীকে ছেলে বানিয়ে আপত্তিকর ও বিকৃত যৌন অঙ্গভঙ্গির অভিনয়ে বাধ্য করার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় যৌথভাবে জড়িত বিভিন্ন বিভাগের ছয় জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থী।
সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ মুজতবা আলী হলসংলগ্ন ‘বড়গুল রিপন ছাত্রাবাসে’ এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, প্রথম বর্ষের চারজন শিক্ষার্থীকে টানা চার ঘণ্টা আটকে রেখে বিকৃত উপায়ে র্যাগিং দেওয়া হয়। ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
প্রক্টরিয়াল বডি জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা হলেন—বাংলা বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের গোলজার, অর্থনীতি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের সোলাইমান, শিল্প ও উৎপাদন প্রকৌশল (আইপিই) বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের সাব্বির, পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের মারুফ ও আবু রায়হান।
অন্যদিকে ভুক্তভোগীরা হলেন—সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের নাসির, শিল্প ও উৎপাদন প্রকৌশল বিভাগের মো. গোলাম মোর্শেদ ও শাহাদাত হোসেন সাগর এবং বাংলা বিভাগের জিয়াউর রহমান। তারা সবাই ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, এক সিনিয়র শিক্ষার্থীর জন্মদিন পালনের কথা বলে আমাদের ডেকে নেওয়া হয়। এরপর ছয়জন সিনিয়র মিলে আমাদের ওপর র্যাগিং চালান। প্রথমে নাচতে বাধ্য করা হয়, ভুল করে কেউ হেসে ফেললে পা তুলে দাঁড়িয়ে থাকার শাস্তি দেওয়া হয়। পরে দশ ধরনের কান্নার অভিনয় করতে বলা হয়।
তিনি আরও জানান, একজনকে গামছা পরিয়ে মেয়ে ও আরেকজনকে ছেলে সাজিয়ে প্রেমের প্রস্তাব দেওয়ার নাটক করতে বলা হয়। এরপর অশালীন ও যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ কবিতা পড়তে এবং আপত্তিকর শব্দ উচ্চারণ করতে চাপ দেওয়া হয়।
আরেক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, আমাকে একটি চেয়ারের সামনে দাঁড় করিয়ে সেটিকে মেয়ে কল্পনা করে বিকৃত অঙ্গভঙ্গি ও কবিতা আবৃত্তি করতে বাধ্য করা হয়। আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলাম, কান্নাকাটি করলেও তারা থামেননি। ঘটনার পর থেকে চরম ট্রমার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত সোলাইমান কবির ও সাব্বিরের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা কল কেটে দেন। আরেক অভিযুক্ত আবু রায়হান বলেন, আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম এবং কিছু ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব আমি করিনি, আইপিই বিভাগের সাব্বির করেছে। অন্য অভিযুক্ত মারুফ দাবি করেন, বিষয়টি আমরা নিজেরা সমাধান করে নিয়েছি।
এ বিষয়ে শাবিপ্রবির প্রক্টর অধ্যাপক মোখলেসুর রহমান বলেন, আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ এসেছে। বিষয়টি নিয়ে আজই প্রক্টরিয়াল বডির জরুরি বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



