Advertisement

অবৈধ পদোন্নতির পরও বেরোবিতে সেই ১৫ কর্মচারীকে ফের পদোন্নতি

এশিয়া পোস্ট নিউজ, বেরোবি
অবৈধ পদোন্নতির পরও বেরোবিতে সেই ১৫ কর্মচারীকে ফের পদোন্নতি
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: এশিয়া পোস্ট

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) স্পষ্ট নির্দেশনা ও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) নিয়মবহির্ভূতভাবে পদোন্নতিপ্রাপ্ত সেই ১৫ কর্মচারীকে পুনরায় পদোন্নতি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

Advertisement

ইউজিসির পর্যালোচনায় আগের পদোন্নতি ও আপগ্রেডেশনকে ‘নিয়মবহির্ভূত’ ও ‘অবৈধ’ উল্লেখ করে তা বাতিল এবং অতিরিক্ত পরিশোধিত অর্থ আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তা কার্যকর করেনি। সম্প্রতি ইউজিসির বাজেট অ্যাসেসমেন্ট সংক্রান্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এসব তথ্য সামনে এসেছে।

নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৬ ও ১৭ নভেম্বর ইউজিসির একটি প্রতিনিধি দল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মূল বাজেট পর্যালোচনা করে। এতে মোট ২৯টি অনিয়ম ও পর্যবেক্ষণ চিহ্নিত করা হয়। এসব পর্যবেক্ষণ নিষ্পত্তির জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার তাগাদা দেওয়া হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

এর ফলে, বিশ্ববিদ্যালয়ের চাহিদা অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে ইউজিসি। কমিশন আরও সতর্ক করে দিয়েছে যে, এসব অনিয়ম সংশোধন না করা হলে ভবিষ্যতে বাজেট চাহিদা ও বরাদ্দের পার্থক্য আরও বৃদ্ধি পাবে।

ইউজিসির নথিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ২৪ জানুয়ারি পাঠানো স্মারকের নির্দেশনা উপেক্ষা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের ওপর ভর করে এই পদোন্নতি দেওয়া হয়।

প্রথম ধাপে ১১৬তম সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তে নিয়মবহির্ভূতভাবে ২৫ জন কর্মচারীকে দ্বিতীয় শ্রেণির পদমর্যাদা দেওয়া হয়। দ্বিতীয় ধাপে পরবর্তীতে ইউজিসির অনুমোদনহীন ১১১তম সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে তাদের মধ্য থেকে ১৫ জনকে প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত (আপগ্রেডেশন) করা হয়।

ইউজিসি জানায়, ‘৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী পদোন্নতি/আপগ্রেডেশন সংক্রান্ত নীতিমালা-২০২৩’ কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত নয়। ফলে এই নীতিমালার ওপর ভিত্তি করে গঠিত পদোন্নতি ও আপগ্রেডেশন সম্পূর্ণ অবৈধ। এ কারণে ইউজিসির অ্যাসেসমেন্ট দল উক্ত খাতের বাজেট বরাদ্দ স্থগিত করেছে এবং অনতিবিলম্বে অবৈধ আপগ্রেডেশন বাতিলসহ অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে কমিশনকে অবহিত করার নির্দেশ দিয়েছে।

বিতর্কিত এই পদোন্নতিপ্রাপ্ত ১৫ জন কর্মচারী হলেন—মো. মজিদুল হক, মো. মাহবুর রহমান প্রধান, মো. মতিয়ার রহমান, মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. আসাদুল হক, মো. নাহিদ পারভেজ, মো. হাফিজুল ইসলাম, মো. আরমান হোসেন, মো. মামুদ-উল-হাসান ও মোছা. মুন্নুজান খাতুন। এই ১০ জন সেকশন অফিসার। সহকারী হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা রয়েছেন ৪ জন। তারা হলেন— মো. মাহাবুবুল আলম, ফাহিম মিয়া, মো. জাফরুল ইসলাম সরকার ও মো. সাজেদুল করিম। এছাড়াও রয়েছেন ক্যাটালগার মোছা. লুৎফা বেগম।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. মো. ফেরদৌস রহমান এশিয়া পোস্টকে জানান, ইউজিসির সঙ্গে আমাদের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়েছে এবং সেখানে পদোন্নতির বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আইন এবং ইউজিসির আইন সব ক্ষেত্রে এক নয়। ইউজিসির নীতিমালায় এটি অবৈধ হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নীতিমালায় বৈধ ছিল। তাছাড়া পদোন্নতিপ্রাপ্তদের অনেকেই ৮, ১০ বা ১২ বছর ধরে একই পদে ছিলেন।

বাজেট কাটের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর জানান, কিছু খাতে বাজেট কাটছাঁট করা হলেও সেগুলো ইউজিসির মাধ্যমেই অন্য খাতে সমন্বয় করে পাওয়া যাবে।

তবে এ বিষয়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলী এশিয়া পোস্টকে বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না, ইউজিসির সঙ্গে কথা বলুন।

অন্যদিকে, ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন এশিয়া পোস্টকে জানান, বিষয়টি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এখানে নিয়মবহির্ভূত কিছু ঘটেছে কিনা তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।