Advertisement

বুটেক্সে শিক্ষার্থীদের মারধরের ঘটনায় পাঁচ ছাত্রদল নেতাকর্মীর শাস্তি

এশিয়া পোস্ট নিউজ, বুটেক্স
বুটেক্সে শিক্ষার্থীদের মারধরের ঘটনায় পাঁচ ছাত্রদল নেতাকর্মীর শাস্তি
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স)। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) কয়েকজন শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় শাখা ছাত্রদলের পাঁচ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর মধ্যে দুজনকে সাময়িক বহিষ্কার এবং তিনজনকে জরিমানা ও মুচলেকার শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

সোমবার (১৭ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সাময়িক বহিষ্কৃত দুই শিক্ষার্থী হলেন অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সৈয়দ মাজেদুল ইসলাম প্রান্ত ও ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী বর্ষণ বণিক। তারা যথাক্রমে বুটেক্স ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে আছে।

এছাড়া ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. মোহাইমিনুল হোসাইনকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও মুচলেকা এবং ৪৯তম ব্যাচের অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সুমন সরকার ও ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দেবনাথ মৌলিক চন্দ্রকে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা ও মুচলেকার শাস্তি দেওয়া হয়েছে। তারা শাখা ছাত্রদলের কর্মী বলে জানা গেছে।

গত ৬ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বুটেক্সের ৪৯তম ব্যাচের চার শিক্ষার্থী হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ ওঠে। পরদিন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা সংবাদ সম্মেলনে হামলাকারীদের বিচার দাবি করেন। এর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ক্লাস, ল্যাব ও পরীক্ষা বর্জনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ৬ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তর গেটে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ও ঘটনার সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে শৃঙ্খলা বোর্ডের ১৮তম সভায় শাস্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আরও বলা হয়, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে শৃঙ্খলাজনিত অপরাধ ও অসদাচরণের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় বুটেক্স শৃঙ্খলা বোর্ড বিধান ২০১৫ এর ধারা ৩(ঘ) অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও শৃঙ্খলা বোর্ডের সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মাহাবুবুর রহমান বলেন, দুই জনকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। পরে তাদের শোকজ দেওয়ার মাধ্যমে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে তারা সেটার উত্তর দিবে এবং সেটি পুনরায় আরেকটি কমিটি যাচাই-বাছাই করবে। তারপর শৃঙ্খলা বোর্ডে তাদের শাস্তি চূড়ান্ত হবে। যেকোনো গঠনমূলক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, এটিই আইনি নিয়ম। এর আগে ক্যাম্পাসে মাঠে সংগঠিত মারামারি ঘটনায়ও এমন আইন অনুসরণ করা হয়েছে।