এক সপ্তাহে বাকৃবির ৪ হলে সংঘর্ষ, কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি উপাচার্যের

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) এক সপ্তাহের ব্যবধানে চারটি আবাসিক হলে কয়েক দফায় সংঘর্ষ, পাল্টাধাওয়া, ভাঙচুর ও ককটেলসদৃশ বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত ১৮ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। ব্যক্তিগত বিরোধ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাগ্বিতণ্ডা ও অঞ্চলভিত্তিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এসব সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘাতময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ ও ২৪ জুলাই শহীদ শামসুল হক হল ও আশরাফুল হক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুই শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত বিরোধ ঘিরে প্রথম দফায় সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এতে ১৩ জন শিক্ষার্থী আহত হন। এর জের ধরে রোববার (২ আগস্ট) মধ্যরাতে দুই হলের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ রয়েছে, আশরাফুল হক হলের কয়েকজন শিক্ষার্থী ফসিলের মোড়ে আড্ডা দেওয়ার সময় শামসুল হক হলের শিক্ষার্থীরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। পরবর্তীতে আশরাফুল হক হলের শিক্ষার্থীরা লাঠিসোটা নিয়ে শামসুল হক হলের সামনে গেলে দুপক্ষ পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে লিপ্ত হয়। এ সময় বৈদ্যুতিক বাতি, গেটের লোগো ভাঙচুর করা হয় এবং বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
অন্যদিকে, গত শনিবার (১ আগস্ট) রাতে কৃষি অনুষদের মেসেঞ্জার গ্রুপে আঞ্চলিক কথা-কাটাকাটির জেরে মাওলানা ভাসানী হল ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের প্রথম বর্ষের (২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থীদের মধ্যেও পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে দুই হলের অন্তত পাঁচজন শিক্ষার্থী আহত হন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য প্রতিষেধক শাখার চিকিৎসক ডা. আমিনুল মতিন জানান, আহত শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে নিজ নিজ হলে ফিরে গেছেন।
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. বজলুর রহমান মোল্যা বলেন, ছোট ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ ধরনের সংঘর্ষ অত্যন্ত দুঃখজনক। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। উসকানিদাতাদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনা হবে।
মাওলানা ভাসানী হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক শরীফ-আর-রাফি বলেন, সংঘর্ষে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন এবং হলের বিভিন্ন স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিষয়টি উপাচার্যকে জানানো হয়েছে এবং লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শহীদ শামসুল হক হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আওয়াল বলেন, ঘটনার বিষয়ে হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আশরাফুল হক হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলম মিয়া জানান, ঘটনার তদন্তে কমিটি গঠনের কার্যক্রম চলছে।
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া জানান, ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।



