দাবির মুখে চুয়েটে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বেতন পরিশোধ

আন্দোলন ও দাবির মুখে অবশেষে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সেপ্টেম্বর মাসের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চুয়েট শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সামিউন বাসির।
এর আগে, বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে সোনালী ব্যাংকের চুয়েট শাখা ঘেরাও করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে চুয়েট কর্মচারী সমিতি।
জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে টানা ১৬ দিন ধরে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন ও কর্মবিরতি পালন করছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এই অচলাবস্থার মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের নির্দেশে আটকে যায় সেপ্টেম্বর মাসের বেতন-ভাতা। সামনে দুর্গাপূজা থাকায় এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারীরা।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ২৯ সেপ্টেম্বর সোনালী ব্যাংক চুয়েট শাখার ব্যবস্থাপককে ইমেইল পাঠিয়ে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বেতন বন্ধের নির্দেশ দেন নতুন উপাচার্য। পরবর্তীতে ৫ অক্টোবর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পট্রোলার ও উপ-কম্পট্রোলারের স্বাক্ষরসহ বেতন বিল পাওয়ার বিষয়টি উপাচার্যকে অবহিত করলে তিনি জানান, তার পূর্বানুমোদন ছাড়া পাঠানো এই বিল ‘অননুমোদিত ও বেআইনি’।
চুয়েট আইন ২০০৩-এর ১৩(৭) ধারার বরাত দিয়ে উপাচার্য ইমেইলে উল্লেখ করেন, উপাচার্যের সুস্পষ্ট অনুমোদন ছাড়া যেকোনো আর্থিক লেনদেন আইনত অবৈধ এবং এর ফলে কোনো জটিলতা সৃষ্টি হলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার দায়ভার নেবে না।
এ বিষয়ে সোনালী ব্যাংক চুয়েট শাখার ব্যবস্থাপক জয়ন্ত ভৌমিক জানান, উপাচার্যের ইমেইল বার্তা পাওয়ার পরই বেতন প্রদান স্থগিত করা হয়েছিল এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল।
উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম বলেন, কম্পট্রোলারসহ সংশ্লিষ্টদের আলোচনার জন্য ডাকা হলেও তারা উপস্থিত হননি। নিয়ম অনুসারে বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো আর্থিক লেনদেনে উপাচার্যের অনুমতি বাধ্যতামূলক, যা এতদিন মানা হয়নি।
অন্যদিকে শিক্ষক ও কর্মকর্তা সমিতির প্রতিনিধিরা এই বক্তব্যের বিরোধিতা করে জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মাসেই কম্পট্রোলারের মাধ্যমে বেতন বিল পাঠানো হয় এবং এতে উপাচার্যের আলাদা অনুমোদনের প্রয়োজন পড়ে না।
শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সামিউন বাসির অভিযোগ করেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে বেতন আটকে রাখা হয়েছিল। তিনি আরও জানান, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী সমিতির যৌথ উদ্যোগে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনার পর অবশেষে বেতন-ভাতা পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর পর পরই সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে শাটডাউন ও কর্মবিরতি শুরু করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
