টেক্সটাইল ক্যাডার অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি বিবেচনার সুযোগ আছে: শিক্ষামন্ত্রী

এশিয়া পোস্ট নিউজ, বুটেক্স
টেক্সটাইল ক্যাডার অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি বিবেচনার সুযোগ আছে: শিক্ষামন্ত্রী
বুটেক্সে নবীন বরণ অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ছবি: এশিয়া পোস্ট

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, ‘বাংলাদেশ বর্তমানে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। এই অবস্থানের অগ্রগতির জন্য ভবিষ্যৎ বস্ত্র প্রকৌশলীদের এগিয়ে আসতে আহ্বান করছি। বিসিএস ক্যাডারে টেক্সটাইলের আলাদা কোনো ক্যাডার নেই। সামনে টেক্সটাইল ক্যাডারের ন্যায্য দাবি সুবিবেচনার সুযোগ আছে। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে এই বিষয়ে অবগত করবো।’

এসময় তিনি বলেন, ‘নবাগত শিক্ষার্থীদের টেক্সটাইল শিল্পের ভবিষ্যৎ ও এই বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণার উপর গুরুত্ব আরোপ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি গবেষণা ও উদ্ভাবনী কাজে নিযুক্ত হতে উদ্বুদ্ধ করা দরকার। শিক্ষালাভের পাশাপাশি একজন শিক্ষার্থীকে জীবনে সফলতার শীর্ষে পৌঁছাতে নেতৃত্বদানের ক্ষমতা অর্জন করা জরুরি।’

এছাড়া শিক্ষামন্ত্রী বুটেক্সের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও গবেষণাকেন্দ্র নির্মাণের বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভবনের কাজ দ্রুত শুরু হবে বলে জানান। বক্তব্যের শেষার্ধে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক আবেদনের প্রেক্ষিতে ও বর্তমান সরকারের সহযোগিতায় ক্যাম্পাস সম্প্রসারণ ও দ্বিতীয় ক্যাম্পাস নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন।

বুধবার (১ জুলাই) বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে নবীন শিক্ষার্থীদের বরন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের লেভেল-১, টার্ম-১ এ ভর্তি হওয়া ৫২তম ব্যাচের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স)। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি, ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এ্যাব)-এর আহ্বায়ক প্রকৌশলী মো. শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন, অ্যাগ্রিকালচারিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এ্যাব)-এর সদস্য সচিব শাহাদত হোসেন বিপ্লব উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইইবি’র টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মহিউদ্দিন আহমেদ (সেলিম) এবং আইটিইটি’র নবনির্বাচিত সভাপতি প্রকৌশলী মো. এনায়েত হোসেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং ৫২তম ব্যাচের নবীন শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, ‘বুটেক্স থেকে পাস করা দক্ষ টেক্সটাইল প্রকৌশলীরা দেশের তৈরি পোশাক ও বস্ত্রশিল্পে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে যাচ্ছেন। দেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮৫ শতাংশ আসে টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক খাত থেকে। আমি শিক্ষার্থী থাকাকালে কখনো ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে হয়নি। সিনিয়ররা সবসময় দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা করেছেন। বুটেক্স থেকে পাস করার পর এখন পর্যন্ত একজন টেক্সটাইল প্রকৌশলীও বেকার নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘টেক্সটাইল খাত দেশের অন্যতম বৃহৎ অর্থনৈতিক খাত। তাই বুটেক্সে একটি আধুনিক গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার বিষয়টি সরকারের কাছে তুলে ধরবেন এবং টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের জন্য ক্যাডারভিত্তিক নিয়োগ চালুর উদ্যোগ নেবেন।’

অনুষ্ঠানে বুটেক্সের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জুলহাস উদ্দিন নবীন শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে পড়াশোনাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। নিয়মিত ক্লাস, পরীক্ষায় অংশগ্রহণ এবং ভালো ফলাফলের পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হয়ে নেতৃত্ব, যোগাযোগ দক্ষতা ও মানবিক গুণাবলি অর্জন করতে হবে। বুটেক্সের লক্ষ্য শুধু দেশীয় শিল্পের জন্য নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় সক্ষম ‘গ্লোবাল গ্র্যাজুয়েট’ তৈরি করা। এ লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা অর্জনে গুরুত্ব দিচ্ছি আমরা। আমি আশা করি নবীন শিক্ষার্থীরা চার বছরের নির্ধারিত সময়ে সফলভাবে স্নাতক সম্পন্ন করে দেশ ও জাতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম, পরীক্ষা পদ্ধতি, গবেষণা, উদ্ভাবন, সহশিক্ষা কার্যক্রম এবং ক্যাম্পাস- সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে অবহিত করা হয়। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম-শৃঙ্খলা, শিক্ষার পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ পেশাগত দক্ষতা অর্জনের বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।