logo
Advertisement

বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই আমার লিডারশিপের যাত্রা শুরু: আনিসুর রহমান খোকন

এশিয়া পোস্ট নিউজ, জবি
বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই আমার লিডারশিপের যাত্রা শুরু: আনিসুর রহমান খোকন
জবিতে ইয়ুথ ইমপেক্ট সামিটে বক্তব্য দেন আনিসুর রহমান খোকন তালুকদার। ছবি: এশিয়া পোস্ট

মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান খোকন তালুকদার বলেছেন, লিডারশিপ ক্লাসরুম থেকেই শুরু হয়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই আমার লিডারশিপের যাত্রা শুরু। আমি বাস্তব জীবন থেকে দক্ষতা, কণ্ঠস্বর এবং নেতৃত্ব— এই তিনটি বিষয়কে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে পেয়েছি।

Advertisement

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুর ২টায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইয়ুথ ইমপেক্ট সামিট-২০২৬ এ তিনি এ কথা বলেন।

আন্তর্জাতিক যুব দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সাজিদ অ্যাকাডেমিক ভবনের ১০ম তলার মিনি কনফারেন্স রুমে এ সামিট অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজিত এ সামিটে তরুণদের নেতৃত্ব, দক্ষতা ও সামাজিক পরিবর্তনে তাদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা ও মতবিনিময় করা হয়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিরাঙ্গন কার্যক্রম দপ্তর, চিলড্রেন ওয়াচ ফাউন্ডেশন (সিডব্লিউএফ) এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় মার্কেটিং ক্লাব যৌথভাবে এ আয়োজন করে। এতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৫ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।

আনিসুর রহমান খোকন তালুকদারকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। ছবি: এশিয়া পোস্ট
আনিসুর রহমান খোকন তালুকদারকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। ছবি: এশিয়া পোস্ট

সামিটে আনিসুর রহমান খোকন বলেন, আমরা সবাই মনে করি, লিডারশিপ মানে একটা রাজনৈতিক পদ। কিন্তু কর্মজীবনে এবং বাস্তব জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমাদের লিডারশিপের দায়িত্ব নিতে হয়। পরিশ্রম যদি থাকে, তাহলে যে কোনো কিছু সম্ভব। আমরা যারা যে কোনো কাজের পেছনে লেগে থাকি, তাহলে তার সফলতা আসবেই। আপনি একবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে দুইবার অথবা তিনবারে নিশ্চয়ই সফল হবেন।

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে আনিসুর রহমান খোকনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, এখনও যখন আনিসুর রহমান খোকনের কথা উচ্চারিত হয়, আমি তখন মাথায় গামছা বাঁধা একটা ছবি দেখতে পাই, যেটা সে সময়ে আন্দোলনের সৃষ্টি করেছিল। কেউ তখন কথা বলেনি, কথা বলেছিল আনিসুর রহমান তালুকদার। আলহামদুলিল্লাহ, গুম নামক যে রাজ্য, সে রাজ্য থেকে আল্লাহ তাকে ফিরিয়ে দিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে শাহ্ ইসরাত আজমেরী বলেন, পলিটিক্যাল সেক্টর হোক কিংবা গ্রাউন্ড সেক্টর, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তরুণদের জন্য স্কিলস, ভয়েস ও লিডারশিপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই তিনটির সমন্বয়ে নিজেদের দক্ষতা ও সক্ষমতা গড়ে তুলতে পারলে আমাদের এগিয়ে যাওয়ার পথে কেউ বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না। আমরা যেমন দেশকে নেতৃত্ব দিতে পারব, তেমনি অর্থনীতি, সমাজ, উন্নয়ন ও স্বেচ্ছাসেবামূলক বিভিন্ন ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারব।

তিনি বলেন, আমাদের বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। বিশ্বের অনেক দেশ তরুণদের দক্ষতা ও নেতৃত্ব বিকাশে আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে রয়েছে। তাই আমাদেরও এখন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সামনে এগিয়ে আসতে হবে। বাংলাদেশের তরুণরা যদি নিজেদের মেধা, সংস্কৃতি, শান্তিপূর্ণ মানসিকতা ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডকে কাজে লাগায়, তাহলে শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বকেও জয় করা সম্ভব।

তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ধৈর্য ও পরিশ্রমের সমন্বয়ে কাজ করলে আমাদের দক্ষতা যেমন বাড়বে, তেমনি আমাদের কণ্ঠ ও আত্মবিশ্বাসও আরও শক্তিশালী হবে। আর দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নেতৃত্বের সক্ষমতাও তৈরি হবে।

অনুষ্ঠানে তরুণদের দক্ষতা, কণ্ঠস্বর ও নেতৃত্ব বিকাশের পাশাপাশি সামাজিক পরিবর্তনে তাদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় এবং সেরা ৫ জনকে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। এছাড়াও চিলড্রেন ওয়াচ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে দ্য ডেইলি স্টারের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি রাকিব মাদবরকে ইয়ুথ ইমপেক্ট অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক। বিশেষজ্ঞ হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন দ্য ডেইলি স্টারের গ্রোথ এডিটর আজাদ বেগ এবং বিডিজবসের হেড অব প্রোগ্রাম অ্যান্ড অ্যাক্টিভেশন মোহাম্মদ আলী ফিরোজ।