logo
Advertisement

নির্দেশনা উপেক্ষা করে চলছে জাবির মাঠ সংস্কারকাজ

এশিয়া পোস্ট নিউজ,জাবি
নির্দেশনা উপেক্ষা করে চলছে জাবির মাঠ সংস্কারকাজ
নির্দেশনা উপেক্ষা করে চলছে জাবির মাঠ সংস্কারকাজ। ছবি: এশিয়া পোস্ট

নির্দেশনা উপেক্ষা করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলসংলগ্ন খেলার মাঠ সংস্কারের কাজ পুনরায় শুরু করা হয়েছে। কাজ বন্ধ করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে পড়েন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। পরবর্তীতে সহকারী প্রক্টর ঘটনাস্থলে গিয়েও কাজ বন্ধ করতে পারেননি।

Advertisement

জানা গেছে, জাবির খেলার মাঠটি সংস্কারে সরকারি ক্রয় বিধিমালা (পিপিআর) লঙ্ঘন এবং দরপত্র ছাড়াই কাজ দেওয়ার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কাজ বন্ধের নির্দেশ দেয়। কিন্তু শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে ঠিকাদার পুনরায় সংস্কারের কাজ শুরু করেন।

সহকারী প্রক্টর ড. আবদুস সাত্তার বলেন, আজ সকালে পুনরায় কাজ শুরু হওয়ার খবর পেয়ে উপাচার্য আমাকে ঘটনাস্থলে যেতে বলেন। আমি গিয়ে শিক্ষার্থীদের বোঝানোর চেষ্টা করি যে, যেহেতু অনিয়মের অভিযোগে প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, সেহেতু নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত কাজ বন্ধ রাখতে হবে। জুমার নামাজের সময় হওয়ায় নামাজ শেষে বাকি কথা হবে বলে আমি চলে আসি।

কাজ চলমান থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, মাঠের এই সংস্কারকাজটি বহুল প্রতীক্ষিত। আমরাও চাই কাজ হোক এবং শিক্ষার্থীরা খেলাধুলার জায়গা পাক। তবে কোনো ভালো কাজ আমরা দুর্নাম নিয়ে শেষ করতে চাই না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অতিদ্রুত নিয়মবহির্ভূতভাবে চলমান কাজ বন্ধ করবে এবং তদন্ত শেষে সঠিক নিয়মে পুনরায় কাজ সম্পন্ন করার জন্য উদ্যোগ নেবে।

প্রশাসনের কাজ বন্ধের নির্দেশ সম্পর্কে অবগত না থাকার দাবি করে ঠিকাদার আবুল হোসেন বলেন, কাজ বন্ধ করার জন্য প্রশাসন কোনো বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে, এমন কিছু আমি জানতাম না। আমি প্রতিদিনের মতোই সকালে এসে কাজ শুরু করেছি।

অন্যদিকে, কাজ বন্ধে বাধা দেওয়া শিক্ষার্থীরা বলছেন, অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত চললেও মাঠ সংস্কারের কাজ বন্ধ রাখা উচিত নয়। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের ইতিহাস বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী শাকিল বলেন, আমাদের চাওয়া হলো, যেহেতু অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, সেহেতু তদন্ত হোক। পাশাপাশি মাঠের সংস্কারকাজও চলমান থাকুক।

হলের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী সদরুল আমিন বলেন, তদন্ত চলমান থাকুক এবং দোষীরা উপযুক্ত শাস্তি পাক। ঠিকাদার দোষী হলে তার লাইসেন্স বাতিল হোক, এতে আমাদের কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু কাজ চলতে থাকুক। মাঠের কাজ বন্ধ করে কারও কোনো লাভ হবে না।

এ বিষয়ে হল সংসদের ভিপি অমিত কুমার বণিক বলেন, শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মাঠ সংস্কারের জন্য অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও চূড়ান্ত অনুমোদনের পরই সংস্কারকাজ শুরু হয়েছিল বলে আমরা জানি। হঠাৎ করে কাজ বন্ধ করার কারণ শিক্ষার্থীদের সামনে স্পষ্ট করতে হবে। কোনো অভিযোগ বা প্রক্রিয়াগত ত্রুটি থাকলে সেটি সংশোধন করা হোক; কিন্তু শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের প্রয়োজনের একটি কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া কোনো সমাধান হতে পারে না।

এর আগে সরকারি ক্রয় বিধিমালা (পিপিআর) লঙ্ঘন এবং কোনো ধরনের দরপত্র ছাড়াই মাঠ সংস্কারের কাজ দেওয়ার অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলসংলগ্ন মাঠ সংস্কারে সরকারি ক্রয় বিধিমালা লঙ্ঘন এবং দরপত্র ছাড়াই কাজ দেওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নজরে এসেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মাঠ সংস্কারের চলমান কাজ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হলো।

গাণিতিক ও পদার্থবিষয়ক অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. মাহবুব কবিরকে সভাপতি করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটিতে অন্য সদস্যরা হলেন অধ্যাপক ড. খন্দকার শরিফুল হুদা এবং দর্শন বিভাগের অধ্যাপক জাকির হোসেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আশিকুর রহমানকে কমিটির সদস্যসচিব করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে আগামী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

সার্বিক বিষয়ে জানতে তদন্ত কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মাহবুব কবিরের সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।