বরাদ্দ ছাড়াই বুটেক্স ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে হলে থাকার অভিযোগ

ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ থাকা বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম হলে অনুমোদিত সিট বরাদ্দ ছাড়াই অবস্থানের অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. রুবেল মিয়ার বিরুদ্ধে। তাকে ঘিরে হলে মিছিল, স্লোগান এবং বড় পরিসরে খাবারের আয়োজন নিয়েও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় ও হল সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাত ৯টার দিকে রুবেল মিয়া নেতা-কর্মীদের নিয়ে সৈয়দ নজরুল ইসলাম হলে প্রবেশ করেন। এ সময় তাকে স্বাগত জানিয়ে স্লোগান দেওয়া হয়। পরে হলের ডাইনিংয়ে কয়েক শ মানুষের খাবারের আয়োজন করা হয়। সে সময় সাধারণ আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য ডাইনিংয়ের নিয়মিত কার্যক্রম বন্ধ ছিল।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রুবেল বর্তমানে হলের ৩০১ নম্বর কক্ষে অবস্থান করছেন। তবে গত ২১ জুলাই প্রকাশিত হল প্রশাসনের সিট বরাদ্দ তালিকায় তার নাম নেই। ওই কক্ষটি চারজন শিক্ষার্থীর নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে তালিকায় দেখা গেছে।
বরাদ্দ পাওয়া শিক্ষার্থীদের কয়েকজন বর্তমানে পাশের ৩০২ নম্বর কক্ষে অবস্থান করছেন। তবে কক্ষ পরিবর্তনের বিষয়ে হল প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
হলের নীতিমালা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যাচের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের সাত দিনের মধ্যে শিক্ষার্থীদের সিট ছেড়ে দিতে হয়। একই সঙ্গে প্রভোস্টের পূর্বানুমতি ছাড়া হলে ভোজ বা কোনো ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের সুযোগ নেই।
রুবেল টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ৪৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি পরে ৪৭তম ব্যাচের সঙ্গে পুনরায় শিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। ওই ব্যাচের চূড়ান্ত ফল ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে এবং অধিকাংশ শিক্ষার্থী হল ছেড়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
৩০২ নম্বর কক্ষে বরাদ্দ পাওয়া অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তারেখ শেখ বলেন, তিনি নিয়মিত হলে থাকবেন না। পরীক্ষা বা বিশেষ প্রয়োজনে হলে এলে ৩০২ নম্বর কক্ষের অতিরিক্ত সিট ব্যবহার করবেন।
একই কক্ষে বরাদ্দ পাওয়া আরেক শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান মুন্না বলেন, হলে ওঠার পরিকল্পনা থাকলেও তিনি এখনো ওঠেননি। আনুষ্ঠানিকভাবে সিট গ্রহণও করেননি বলে জানান তিনি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে হলের এক শিক্ষার্থী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ থাকার পরও একজন রাজনৈতিক নেতাকে ঘিরে হলে স্লোগান ও বড় আয়োজন হওয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা থাকলে তা সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে কার্যকর হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে মো. রুবেল মিয়া বলেন, ‘আমি অনেক টেকনিক খাটিয়ে হলে উঠেছি। হল প্রশাসন, উপাচার্য বা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অভিযোগ পাইনি। আমি স্থায়ীভাবে হলে উঠেছি এবং ৩০১ নম্বর কক্ষে একাই থাকব।’
বরাদ্দ তালিকায় নাম না থাকার বিষয়টিও স্বীকার করেন তিনি। রুবেল বলেন, ‘সব নিয়ম মেনেই উঠেছি, শুধু অ্যালটমেন্ট তালিকায় আমার নাম নেই। সেদিন সবাই আমাকে বরণ করে নিয়েছে এবং আমি ৩০০ জনের খাবারের আয়োজন করেছি।’
সৈয়দ নজরুল ইসলাম হলের প্রভোস্ট মোতাকাব্বির হাসান তমাল বলেন, খাবারের আয়োজনের জন্য তার অনুমতি নেওয়া হয়নি। রুবেল হলে সিটের জন্য আবেদন করলেও তাকে কোনো সিট বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, ৩০১ ও ৩০২ নম্বর কক্ষে বরাদ্দ পাওয়া শিক্ষার্থীরা নিজেদের মধ্যে কক্ষ পরিবর্তনের কথা জানিয়েছেন। তবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে হলে ওঠেননি। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হলের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান করা হবে।
উল্লেখ্য ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট বুটেক্স সিন্ডিকেটের জরুরি সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সব ধরনের রাজনৈতিক সংগঠন ও রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক কার্যক্রমের নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ হয়েছে কি না এবং বরাদ্দ ছাড়া হলে অবস্থানের বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
