Advertisement

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্তার অভিযোগ

এশিয়া পোস্ট নিউজ, জাককানইবি
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্তার অভিযোগ
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) এক নারী শিক্ষার্থী ও তার পরিবারকে মানসিক নির্যাতন, শারীরিক লাঞ্ছনা ও যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক নারী আনসার সদস্য এবং তার স্বামীর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।

ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বিষয়টি তার সহপাঠী ও সিনিয়র শিক্ষার্থীদের জানালে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত আনসার সদস্য শিরিয়া বেগম ও তার স্বামী জোবায়ের রাহমানকে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যান।

অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী পরিবারসহ অভিযুক্ত আনসার সদস্যের পাশের বাসায় ভাড়া থাকতেন। কিছুদিন ধরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিযুক্ত দম্পতি তাকে ও তার পরিবারকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, অপমান ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছিলেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর দাবি, তার বাবা রিকশাচালক হওয়ায় তাকে ও তার পরিবারকে প্রতিনিয়ত সামাজিকভাবে হেয় করা হতো। এমনকি তার মায়ের বিরুদ্ধে চুরির মিথ্যা অপবাদ দেওয়া, অশালীন মন্তব্য করা এবং ধর্মীয় অনুশীলনের সময়ও কটূক্তি করা হতো। এ ছাড়া অভিযুক্ত আনসার সদস্যের স্বামী তার প্রতি অশ্লীল ও যৌন হয়রানিমূলক ইঙ্গিত করেছেন এবং কয়েকবার তার বৃদ্ধা মাকে ধাক্কা দিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন। আনসার সদস্যের পরিচয় ভাঙিয়ে বিভিন্ন সময় বাসা ছেড়ে দেওয়ার জন্যও ভয়ভীতি দেখানো হতো বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আরও বলেন, আমি এবং আমার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে চরম মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছি। একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হয়েও আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে আনসার সদস্য শিরিয়া বেগম বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। একই বাসায় থাকার কারণে সামান্য কথা-কাটাকাটি হয়েছে মাত্র। গালিগালাজ বা লাঞ্ছনার যেসব কথা বলা হচ্ছে, সেগুলোর কোনো সত্যতা নেই।

তার স্বামী জোবায়ের রাহমানও অভিযোগ নাকচ করে বলেন, মারধর কিংবা গালিগালাজের যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

বাসার মালিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তরের কেয়ারটেকার মাসুদ রানা জানান, এর আগেও তিনবার তাদের ঝগড়া-বিবাদ মীমাংসা করার চেষ্টা করেছি। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় আমি উভয় পক্ষকেই বাসা ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর নাজমুল হাসান বলেন, আমরা দুই পক্ষের বক্তব্যই শুনেছি। ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আনসার প্লাটুন কমান্ডার (পিসি) তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন। পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করবে।