তাসনিম সিরাজের পক্ষে অবস্থান/এবার সামিনা লুৎফাসহ সংশ্লিষ্টদের ‘লাল কার্ড’ শিক্ষার্থীদের

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুবকে পাঠদান থেকে সাময়িক অব্যাহতির প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা। শিক্ষকদের সেই প্রতীকী প্রতিবাদের এক দিন পরই এবার তাসনিম সিরাজ ও তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে ‘লাল কার্ড’ প্রদর্শন করেছেন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা এ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন। এক ছাত্রীকে ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ ও ‘সন্ত্রাসী’ বলার অভিযোগ এবং অভিযুক্ত শিক্ষিকার পক্ষে অন্য শিক্ষকদের সাফাই গাওয়ার প্রতিবাদেই এ লাল কার্ড দেখানো হয়।
শিক্ষার্থীদের এ প্রতিবাদ কর্মসূচির মূল স্লোগান ছিল- ‘Red Card to Racist, Classist and Hypocrite’ (বর্ণবাদী, শ্রেণিবিদ্বেষী ও ভণ্ডদের প্রতি লাল কার্ড) এবং ‘Red Card to Those Who Support Discrimination, Humiliation and Bullying’ (যারা বৈষম্য, অপমান ও হয়রানিকে সমর্থন করে তাদের প্রতি লাল কার্ড)।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া এক শিক্ষার্থী জানান, শিক্ষকের বৈষম্যমূলক আচরণের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের সদস্য অধ্যাপক সামিনা লুৎফার প্রতীকী প্রতিবাদের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতেই তারা এ কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন। ওই শিক্ষার্থীর ভাষ্য, এ ধরনের মন্তব্য করা একজন শিক্ষকের পক্ষে যতই বিবৃতি দেওয়া হোক না কেন, শিক্ষার্থীরা এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার রাখতে চায়।
গত ৭ অক্টোবর ইংরেজি বিভাগের একটি ক্লাসে নিকাব পরিহিত এক ছাত্রীকে ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ ও ‘সন্ত্রাসী’ বলার অভিযোগ ওঠে তাসনিম সিরাজের বিরুদ্ধে। এরপর শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে তাকে সাময়িকভাবে ক্লাস নেওয়া থেকে বিরত রাখা হয়। তবে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ায় এর প্রক্রিয়া নিয়ে শিক্ষক মহলে প্রশ্ন ওঠে।
পরবর্তীতে ১০ অক্টোবর তাসনিম সিরাজ তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক ভিডিও বার্তায় দাবি করেন, তিনি ওই ছাত্রীকে নিকাব খুলতে বা পোশাক পরিবর্তন করতে বলেননি। শিক্ষার্থীর চোখ দেখা না যাওয়ায় তাকে শনাক্ত করতে এবং ক্লাসে তার প্রতিক্রিয়া বুঝতে অসুবিধা হচ্ছিল বলেই তিনি কথাগুলো বলেছিলেন।
অন্যদিকে, সহকর্মীকে পাঠদান থেকে বিরত রাখার প্রতিবাদে রোববার (১১ অক্টোবর) ক্লাসে মুখে কালো কাপড় বেঁধে প্রতীকী প্রতিবাদ জানান অধ্যাপক সামিনা লুৎফা এবং অন্য শিক্ষকদেরও এতে শামিল হওয়ার আহ্বান জানান। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কও ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণের দাবি জানায়।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. তাজিন আজিজ চৌধুরী বলেন, ‘আমি এ মুহূর্তে অফিসের বাইরে থাকায় বিষয়টি নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। শিক্ষার্থীরা কোনো লিখিত অভিযোগ দিলে তা পর্যালোচনা করে বিস্তারিত জানা যাবে।’
