logo

রাবি শিক্ষার্থীকে মারধর, প্রতিবাদে রাজশাহী রেলস্টেশন ঘেরাও-ভাঙচুর

রাবি শিক্ষার্থীকে মারধর, প্রতিবাদে রাজশাহী রেলস্টেশন ঘেরাও-ভাঙচুর
রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে অবস্থান নেন রাবি শিক্ষার্থীরা। ছবি : এশিয়া পোস্ট

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আইয়ুব আলীকে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। অচেতন অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে স্টেশনের গেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে রাবি শিক্ষার্থীরা রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন ঘেরাও করে বিক্ষোভ করছেন। এ সময় স্টেশনজুড়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা স্টেশনের প্রবেশগেট, টিকিট কাউন্টারসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। এ সময় আতঙ্কে ঢাকাগামী যাত্রীরা ট্রেনের বিভিন্ন বগিতে অবস্থান নেন।

এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছেন।

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা স্টেশনের টিকিট কাউন্টারসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালান ছবি: এশিয়া পোস্ট
বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা স্টেশনের টিকিট কাউন্টারসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালান ছবি: এশিয়া পোস্ট

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিটিসি) ও অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. গাজীউর রহমান এশিয়া পোস্টকে বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে তবে এ অভিযোগের বিষয়ে জানতে রেলস্টেশনের ম্যানেজার বা দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিদের ভাষ্য, রেলস্টেশনে ইংরেজি বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যদের কথা-কাটাকাটি হচ্ছিল। এ সময় পরিস্থিতি সমাধানে এগিয়ে গেলে আইয়ুবকে মারধর করেন রেলের নিরাপত্তারক্ষী, টিটিই ও গার্ডরা।

এ বিষয়ে আইয়ুবের সহপাঠী নাইমুল ইসলাম অভ্র বলেন, মারধরের পর আইয়ুব মাটিতে পড়ে যান। বর্তমানে তিনি অচেতন অবস্থায় রয়েছেন এবং কয়েকবার বমি ও নাক দিয়ে রক্তপাত হয়েছে বলে জানান তিনি।

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা স্টেশনের টিকিট কাউন্টার ভাঙচুর করেন ছবি: এশিয়া পোস্ট
বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা স্টেশনের টিকিট কাউন্টার ভাঙচুর করেন ছবি: এশিয়া পোস্ট

এদিকে আহত শিক্ষার্থীকে দেখতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। রেলের কর্মচারীরা তাকে অত্যন্ত নির্মমভাবে মারধর করেছেন। আমি নিউরোসার্জনের সঙ্গে কথা বলেছি। তাকে ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। আমরা বিষয়টি খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘তার চিকিৎসাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি রেলের নিরাপত্তারক্ষী, টিটিই ও গার্ডসহ সংশ্লিষ্টদের এমন আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও পুলিশকে অনুরোধ জানিয়েছি।’