Advertisement

শিক্ষক ও প্রশাসনের আশ্বাসে অনশন ভাঙলেন বেরোবি শিক্ষার্থীরা

এশিয়া পোস্ট নিউজ, বেরোবি
শিক্ষক ও প্রশাসনের আশ্বাসে অনশন ভাঙলেন বেরোবি শিক্ষার্থীরা
অনশন করা বেরোবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন শিক্ষক ও প্রশাসনের কর্মকর্তা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) বিভাগীয় সেশনজট নিরসনে আমরণ অনশনে বসা শিক্ষার্থীরা শিক্ষক ও প্রশাসনের আশ্বাসে অনশন ভেঙেছেন। চার দফা দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা।

Advertisement

রোববার (১৬ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ভবন-২ -এর সামনে এ অনশন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শিক্ষক ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দেওয়া হলে তারা অনশন ভেঙে আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়ান।

শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—চতুর্থ বর্ষের প্রথম সেমিস্টারের ফাইনাল পরীক্ষা নভেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করা, চতুর্থ বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারের ফাইনাল পরীক্ষা আগামী ৩০ মার্চের মধ্যে শেষ করা, প্রতিটি সেমিস্টারের পরীক্ষা শেষ হওয়ার সর্বোচ্চ ৪ থেকে ৬ সপ্তাহের মধ্যে ফল প্রকাশ এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে কোনো শিক্ষার্থীর ফলাফল, প্রাপ্ত নম্বর বা মূল্যায়নে বৈষম্য, প্রতিহিংসা কিংবা নেতিবাচক প্রভাব না ফেলা। পাশাপাশি দাবিগুলো বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রশাসনের লিখিত নিশ্চয়তাও দাবি করেন তারা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী আব্দুল কাদের বলেন, আমাদের ৩ দশমিক ১ সেমিস্টারের ফাইনাল পরীক্ষা গত বছরের ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে শেষ হয়েছে। কিন্তু এখনও ফল প্রকাশ হয়নি। আমরা অধিকাংশই মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে এসেছি। অনার্স শেষ করতে অতিরিক্ত এক বছর বা তার বেশি সময় লাগলে আমাদের পাশাপাশি পরিবারের ওপরও আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয়। অন্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা যেখানে ৪ দশমিক ২ সেমিস্টারের ফাইনাল পরীক্ষা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, সেখানে আমরা এখনও ৩ দশমিক ২ সেমিস্টারের পরীক্ষাই দিতে পারিনি। আমাদের বিভাগের প্রতিটি ব্যাচই সাত-আট মাসের সেশনজটে রয়েছে।

শিক্ষার্থী সাকিব বলেন, আমাদের বিভাগের শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের সব দাবি মেনে নিয়ে দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন। প্রশাসনের এই আশ্বাসে আমরা আশ্বস্ত হয়েছি। তাই তাদের প্রতি আস্থা রেখে আমরা অনশন ভেঙেছি।

এ বিষয়ে ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. মোস্তাফিজুর রহমান এশিয়া পোস্টকে বলেন, আমাদের বিভাগে নানা সংকটের কারণে সব ব্যাচেই কিছুটা সেশনজট রয়েছে। শিক্ষক ও শ্রেণিকক্ষ সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে। আমাদের পাঁচটি ল্যাব প্রয়োজন, এর মধ্যে দুটি রয়েছে। আরও তিনটি ল্যাব প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, কয়েক দিন আগে সব বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা কেন অনশনে বসেছে, সেটি আমি জানি না।

দশ মাসেও ফল প্রকাশ না হওয়ার বিষয়ে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান ড. মোছা. সিফাত রুমানা বলেন, পরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে সব কাজ আমার একার নয়। অনেক শিক্ষক ফলাফল জমা দিতে দেরি করেছেন। এ কারণে ফল প্রকাশেও বিলম্ব হচ্ছে। আশা করছি, আজকের মধ্যেই ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান এশিয়া পোস্টকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছু সংকট রয়েছে, তাই কিছু সীমাবদ্ধতাও আছে। ৩.১ সেমিস্টারের ফলাফল প্রকাশ হয়েছে। বাকি সেমিস্টারগুলো ছয় মাসের মধ্যে একটি করে শেষ করার বিষয়ে কাজ করা হবে। প্রয়োজনে শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিনেও ক্লাস করার বিষয়ে শিক্ষার্থীরা রাজি আছে। আশা করছি, বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা হবে।