জিপিএ-৫ পেলেন জুলাই আন্দোলনে গ্রেপ্তার সেই ফাইয়াজ

২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন জুলাই আন্দোলনের সময় গ্রেপ্তার হওয়া ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী হাসনাতুল ইসলাম ফাইয়াজ। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে মাত্র ১৭ বছর বয়সে গ্রেপ্তার হওয়ার পর দেশজুড়ে আলোচনায় আসেন তিনি। গ্রেপ্তারের পর হাতকড়া পরিয়ে ও রশি দিয়ে বেঁধে তাকে আদালতে হাজির করার ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার বড় ভাই ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাজহারুল ইসলাম। ফাইয়াজ ঢাকা কলেজ থেকে এবারের পরীক্ষায় অংশ নেন।
জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে পুলিশ সদস্য গিয়াস উদ্দিন হত্যা মামলায় ফাইয়াজকে আসামি করা হয়। ওই বছরের ২৪ জুলাই রাতে রাজধানীর মাতুয়াইলের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তখন তার বয়স ছিল ১৭ বছর।
২৭ জুলাই ফাইয়াজকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। আদালত প্রথমে রিমান্ড মঞ্জুর করলেও পরদিন জন্মনিবন্ধন সনদ ও এসএসসি পরীক্ষার সনদ উপস্থাপনের মাধ্যমে তার অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হয়। পরে শিশু আদালত রিমান্ডের আদেশ বাতিল করে তাকে গাজীপুরের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালতে হাজির করার সময় ফাইয়াজের হাতে হাতকড়া ও দড়ি বাঁধা অবস্থার ছবি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীকে এভাবে আদালতে হাজির করার ঘটনায় দেশজুড়ে সমালোচনা হয়। এ ঘটনায় শিশু অধিকার ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগও ওঠে। পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে যাত্রাবাড়ী থানার ওই হত্যা মামলার তদন্তে ফাইয়াজের সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়ায় তাকে অব্যাহতির সুপারিশ করে তদন্তকারী সংস্থা। আদালত তদন্তের অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন গ্রহণ করলে ওই মামলা থেকে অব্যাহতি পান তিনি।
নিজের ফলাফল সম্পর্কে ফাইয়াজ এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘এসএসসিতেও আমি জিপিএ-৫ পেয়েছিলাম। তখন প্রায় ৯৩ শতাংশ নম্বর ছিল। এইচএসসি পরীক্ষার পর বিশেষ করে বাংলা বিষয় নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তায় ছিলাম। তবে শেষ পর্যন্ত বাংলায় এ প্লাসসহ প্রত্যাশিত ফল পেয়েছি। নিজের জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। আল্লাহর রহমতে ভালো ফল হয়েছে।’
জুলাই আন্দোলনের সময় গ্রেপ্তার ও থানা হেফাজতে থাকায় পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখা বেশ কঠিন ছিল বলে জানান ফাইয়াজ।
তিনি বলেন, সে সময় পড়াশোনা করতে দেওয়া হতো না। বরং বিভিন্ন সময় ‘তোরা কি পড়াশোনা করবি, নাকি জেলে মরবি? সামনে কী করবি?’—এ ধরনের কথা বলে মানসিকভাবে চাপে রাখার চেষ্টা করা হতো। থানা হেফাজতে শারীরিক নির্যাতন ও নানা ধরনের মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তবে সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন করতে পেরেছি। এ জন্য মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি।

