গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধারে ফের আন্দোলনে শেকৃবি শিক্ষার্থীরা, ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ডাক

রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) নিজস্ব গবেষণার মাঠে সচিবালয় স্থানান্তরের জন্য মাটির গুণাগুণ পরীক্ষা (সয়েল টেস্টিং) চলাকালীন কার্যক্রমে শিক্ষার্থীরা বাধা দেন এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের সাইনবোর্ড খুলে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। তারা এ মাঠে বাণিজ্য মেলার আয়োজন বন্ধের জন্য সংশ্লিষ্ট কমিটিকে আল্টিমেটামও দিয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের দাবি, একটি গবেষণাভিত্তিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পর্যাপ্ত জমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই। উপরন্তু শেকৃবির প্রায় ৩৫ একর জমি দীর্ঘদিন ধরে কুক্ষিগত করে রেখেছে সরকার। এতে তাদের অ্যাকাডেমিক ও গবেষণার ক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত জায়গা সংকুলান নিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। নতুন করে সচিবালয় স্থাপিত হলে ক্যাম্পাসের অস্তিত্ব নিয়েও আশঙ্কা করছেন শিক্ষার্থীরা।
গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধারে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) শিক্ষার্থীরা সব ধরনের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেন এবং সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা স্ট্যান্ডের সামনে জমায়েত হন। পরে তারা মিছিল নিয়ে গবেষণা মাঠে প্রবেশ করে চলমান মাটির গুণাগুণ পরীক্ষায় বাধা প্রদান করেন এবং গবেষণা মাঠে স্থাপিত গণপূর্ত অধিদপ্তরের সাইনবোর্ড খুলে ক্যাম্পাসের ভেতর নিয়ে যান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধারের দাবিতে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন, ক্যাম্পাসে গণজমায়েত ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা।
পরীক্ষার বিষয়ে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিন ড. এম. সালাহউদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী এশিয়া পোস্টকে বলেন, পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত চেয়ারম্যানদের সভায় নেওয়া হয়। আপাতত পূর্ব নির্ধারিত তারিখেই পরীক্ষা হবে। পরবর্তীতে সভার মাধ্যমে করণীয় কী হবে জানানো হবে। এটা একক কোনো ব্যক্তির ডিসিশন নয়।
এর আগে, ২০১৫ সালে শেরেবাংলা নগরের পুরোনো বাণিজ্যমেলার মাঠে সচিবালয় স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হলে শিক্ষার্থীরা এর প্রতিবাদ জানান। পরবর্তীতে এই দাবি নিয়ে ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মিলে ‘টেক ব্যাক শেকৃবি ল্যান্ড’ শীর্ষক একটি বড় কর্মসূচি পালন করেন এবং মাঠটি ফেরত চান।
