logo

জবিতে পশু জবাই নিষিদ্ধের প্রতিবাদে ‘গরুভোজ’ কর্মসূচি ঘোষণা

জবিতে পশু জবাই নিষিদ্ধের প্রতিবাদে ‘গরুভোজ’ কর্মসূচি ঘোষণা
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ফটক। ছবি : এশিয়া পোস্ট

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে পশু জবাইয়ে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে ‘গরুভোজ’ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ক্যাম্পাসে এ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে অংশ নিতে জনপ্রতি ৭০ টাকা নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একাধিক পোস্টে এ কর্মসূচির কথা জানানো হয়। পোস্টগুলোতে কর্মসূচির স্থান হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের কথা উল্লেখ করা হয়েছে এবং অংশগ্রহণের সুবিধার্থে একটি গুগল ফর্মের লিংক যুক্ত করা হয়েছে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) মাসুদ রানা তার ফেসবুক আইডিতে কর্মসূচি-সংক্রান্ত একটি পোস্ট শেয়ার করেন। একই পোস্ট শেয়ার করেছেন জবি শাখা ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস শেখ।

এর আগে বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. আজম খানের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ক্যাম্পাসে যেকোনো ধরনের পশু জবাই করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। নির্দেশনা অমান্য করলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

গত ১২ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে গরুর মাংস রান্না করেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ১৭তম ব্যাচের একদল শিক্ষার্থী। মুক্তমঞ্চের একপাশে মসজিদ ও অপরপাশে অস্থায়ী পূজামণ্ডপ থাকায় মন্দিরের সামনে গরুর মাংস রান্না করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন সনাতন ধর্মাবলম্বী একদল শিক্ষার্থী। পাশাপাশি রান্নার চুলা বানাতে মন্দিরের ইট ব্যবহার করার অভিযোগও ওঠে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত দুই দিন ধরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পক্ষে-বিপক্ষে নানা আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়।

তবে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের দাবি, ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের এই সম্মিলিত আয়োজনটি প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিনে করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু রান্নার সময় গ্যাসসংকট দেখা দেওয়ায় তারা মুক্তমঞ্চের উন্মুক্ত স্থানে রান্না শুরু করেন। চুলা তৈরির জন্য আশপাশে থাকা কয়েকটি ইট ব্যবহার করা হয়েছিল। পরে সনাতন ধর্মাবলম্বী এক শিক্ষার্থী ইটগুলো মন্দিরের বলে জানালে তারা সেগুলো ব্যবহার বন্ধ করেন এবং স্থান পরিবর্তন করেন।

মূলত ওই ঘটনার পর ক্যাম্পাসে পশু জবাই থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এর পরপরই নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদ জানিয়ে গরুভোজের কর্মসূচি ঘোষণা করেন শিক্ষার্থীরা।