logo

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আবারও ছাত্রদলের ২ গ্রুপের সংঘর্ষ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আবারও ছাত্রদলের ২ গ্রুপের সংঘর্ষ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও ছাত্রদলের লোগো। ছবি: এশিয়া পোস্ট গ্রাফিকস

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালযয়ে (জবি) আবারও শাখা ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ ঘটেছে। শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সামছুল আরেফিন এবং যুগ্ম আহ্বায়ক নাহিয়ান বিন অনিকের সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ঘটে। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত উত্তেজনা বিরাজ করছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জবি ক্যাম্পাসে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৩ জন আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

আহতদের মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে দুজনের পরিচয় মিলেছে। তারা হলেন— বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মাসুদ এবং লোকপ্রশাসন বিভাগের ১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ইমন।

জবিতে সংঘর্ষে জড়ান ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ। ছবি: এশিয়া পোস্ট
জবিতে সংঘর্ষে জড়ান ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ। ছবি: এশিয়া পোস্ট

ক্যাম্পাস সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামসুল আরেফীনকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন ১৭ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক নাহিয়ান বিন হক অনিক। ওই পোস্টকে কেন্দ্র করেই মূলত দুটি পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা জানান, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভিক্টোরিয়া পার্ক সংলগ্ন একটি চায়ের দোকানের সামনে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের অবস্থান ছিল। একপর্যায়ে শামসুল আরেফিনের অনুসারীরা হঠাৎ অনিকের গ্রুপের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। প্রথম ধাক্কা সামলে নিয়ে অনিকের অনুসারীরা সংগঠিত হয়ে পাল্টা হামলা চালান।

অনিকের গ্রুপ পাল্টা ধাওয়া দিলে আরেফিনের অনুসারীরা ক্যাম্পাস ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন। অনিকের অনুসারীরা ধাওয়া দিয়ে ক্যাম্পাসে ঢুকে পড়তে পারেন— এমন খবর পেয়ে সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন আগেই ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যান বলে জানা গেছে।

পরে অনিকের অনুসারীরা ক্যাম্পাসে ঢুকলে কাঁঠালতলা এলাকায় উভয় পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে রড, পাইপ, বাঁশ নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নিলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ক্যাম্পাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আজম খান এশিয়া পোস্টকে বলেন, ছাত্রদের দুটি গ্রুপের মধ্যে ঝামেলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আমরা সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ডেকে আনি। পুলিশ আসার পর বর্তমান পরিস্থিতি মোটামুটি শান্ত ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

আহতদের বিষয়ে প্রক্টর বলেন, সংঘর্ষে গুরুতর বা উল্লেখযোগ্যভাবে কেউ আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে টুকটাক দু-একজন সামান্য আঘাত পেয়ে থাকতে পারেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নাহিয়ান বিন অনিকের এক কর্মী বলেন, ভিক্টোরিয়া পার্কের ওখানে চায়ের দোকানে আমাদের ওপর হামলা করা হয়। পরে আমরা সংগঠিত হয়ে ক্যাম্পাসে পাল্টা ধাওয়া করলে এই খবর শুনে শামসুল আরেফিন পালিয়ে যায়।

এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর ছাত্রদলের নবীনবরণের কনসার্ট শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের সামনে কাঁঠালতলা এলাকায় সংগঠনটির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় জবি ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক সুমন সরদার , যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান রুমিকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।