Advertisement

ইবিতে বিধিমালা লঙ্ঘন করে বিভাগীয় সভাপতি নিয়োগ, ভবনে শিক্ষার্থীদের তালা

এশিয়া পোস্ট নিউজ, ইবি
ইবিতে বিধিমালা লঙ্ঘন করে বিভাগীয় সভাপতি নিয়োগ, ভবনে শিক্ষার্থীদের তালা
নিজ বিভাগ থেকে সভাপতি নিয়োগের দাবিতে আন্দোলন করে শিক্ষার্থীরা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) মার্কেটিং বিভাগে বিধিমালা লঙ্ঘন করে নতুন সভাপতি নিয়োগ দিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। বিভাগটির বর্তমান সভাপতির মেয়াদ শেষ হওয়ায় একাধিক যোগ্য শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও নতুন সভাপতি হিসেবে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আব্দুস শহীদ মিয়াকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) নিজ বিভাগ থেকে সভাপতি নিয়োগের দাবিতে সকাল ৯টা থেকে বিভাগে তালা ঝুলিয়ে আন্দোলন শুরু করে বিভাগটির শিক্ষার্থীরা।

পরে তারা ব্যবসায় প্রশাসন ভবনের প্রধান ফটক অবরোধ করেন। এতে ওই ভবনে থাকা ছয়টি বিভাগের চার শতাধিক শিক্ষার্থী আটকে পড়ে। দুপুর ১২টার দিকে তারা তালা খুলে দেন।

জানা গেছে, বিভাগটির সভাপতি সহকারী অধ্যাপক ড. সাদেকুল আজাদের মেয়াদ শেষ হওয়ায় বিভাগটির অধ্যাপক ড. আব্দুস শহীদ মিয়াকে সভাপতি নিয়োগ দেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মতিনুর রহমান। ১৬ আগস্ট ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

শিক্ষার্থীরা জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী— একটি বিভাগে সর্বোচ্চ ক্যাটাগরিতে কর্মরত শিক্ষকদের মধ্য থেকে সবচেয়ে সিনিয়র শিক্ষককে সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে রোটেশন পদ্ধতিতে নিয়োগ হবে। বিভাগে সভাপতি হওয়ার যোগ্য কোনো শিক্ষক না থাকলে বর্তমানে কর্মরত সভাপতিকে পুনরায় পুনঃমেয়াদের জন্য নিয়োগ দেওয়া হবে।

রেজিস্ট্রার দপ্তরের তথ্যমতে, মার্কেটিং বিভাগে বর্তমানে পাঁচ শিক্ষক রয়েছেন এবং তারা সবাই সহকারী অধ্যাপক। তাদের মধ্যে একজন আগে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন এবং আরেকজনের সভাপতির মেয়াদ ১৬ আগস্ট শেষ হয়েছে। বিধি অনুযায়ী, বাকি তিনজন থেকে একজন সভাপতি হবেন।

শিক্ষার্থীরা বলেন, বিভাগে সভাপতি হওয়ার মতো একাধিক যোগ্য শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও অন্য বিভাগ থেকে সভাপতি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যাকে দেওয়া হয়েছে তিনি মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষকও নন।

বিভাগটির শিক্ষার্থী শুভ মিয়া বলেন, আমাদের বিভাগ অল্পসংখ্যক শিক্ষক দিয়ে সেশনজট ছাড়াই এতদিন ভালোভাবে চলে আসছে। সভাপতি হওয়ার মতো সিনিয়র শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও অনুষদের ডিনকে নিয়োগ দেওয়া সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। আমরা বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। আমরা চাই, আমাদের বিভাগের শিক্ষকদের মধ্য থেকেই সভাপতি নিয়োগ দেওয়া হোক।

এ বিষয়ে রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক এশিয়া পোস্টকে বলেন, নিয়মানুযায়ী বিভাগের পরবর্তী সিনিয়র শিক্ষককেই সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে এ বিষয়টি সম্পর্কে আমি বলতে পারব না। উপাচার্য যেভাবে নিয়োগ দিয়েছেন, আমি সেভাবেই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছি।

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মতিনুর রহমানকে কল দিলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে জানান।