logo

বুটেক্স ডে-কেয়ারের বেহাল দশা, উন্নয়নের দাবি

বুটেক্স ডে-কেয়ারের বেহাল দশা, উন্নয়নের দাবি
ছবি : সংগৃহীত

অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, শিশু উপযোগী সুবিধার ঘাটতি এবং প্রশিক্ষিত জনবলের অভাবে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) ডে-কেয়ার সেন্টার। কর্মজীবী শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের সন্তানদের পরিচর্যার জন্য এটি চালু করা হলেও অভ্যন্তরীণ পরিবেশ ও নিরাপত্তার ঘাটতির কারণে দিন দিন অভিভাবকরা আস্থা হারাচ্ছেন। ফলে বাধ্য হয়ে অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডে-কেয়ারের পরিবর্তে বাইরের ব্যয়বহুল প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করছেন।

শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে ডে-কেয়ার হিসেবে ব্যবহৃত কক্ষটি আগে ছাত্রীদের কমনরুম ছিল। কক্ষটিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা কিংবা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) সুবিধা নেই। বর্ষাকালে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে মেঝে পিচ্ছিল হয়ে যাওয়ায় শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা। এছাড়া শিশুদের ব্যবহৃত খেলার মাঠ ও খেলনার পরিচ্ছন্নতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

তারা আরও জানান, একটি আধুনিক ডে-কেয়ারে সাধারণত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কেয়ারগিভার, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ, শিশু উপযোগী টয়লেট, সিসিটিভি নিরাপত্তা, পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, শিশুর বিকাশ উপযোগী খেলনা এবং বিশ্রাম ও খাবারের পৃথক ব্যবস্থা থাকে। কিন্তু বুটেক্সের ডে-কেয়ার এখনো সেই মানদণ্ডে পৌঁছাতে পারেনি বলে দাবি তাদের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক বলেন, সন্তানকে এখানে রাখার কথা ভেবেও বর্তমান পরিবেশ দেখে সাহস পাইনি। কক্ষে এসি বা সিসিটিভি নেই, পরিবেশ স্যাঁতসেঁতে এবং ওয়াশরুমও শিশুদের উপযোগী নয়। এখানে প্রশিক্ষিত ন্যানি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ডে-কেয়ারের সময়সূচি শিক্ষকদের কর্মঘণ্টার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা উচিত।

ডে-কেয়ারের দায়িত্বে থাকা পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. তনুশ্রী বলেন, ডে-কেয়ারটি তুলনামূলকভাবে নতুন হওয়ায় শুরু থেকেই কিছু অবকাঠামোগত ও পরিচালনাগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিভাগকে জানানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো অভিভাবক আমার কাছে লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ করেননি। কেউ সমস্যা জানালে তা সমাধানের চেষ্টা করব।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক ড. শেখ মো. মামুন কবির বলেন, ডে-কেয়ারে নিয়মিত শিশুর সংখ্যা খুবই কম হওয়ায় অল্পসংখ্যক শিশুর জন্য বড় বিনিয়োগ করা ব্যয়বহুল হয়ে দাঁড়ায়। তবে শিশুদের দেখাশোনার দায়িত্বে যারা থাকবেন, তাদের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হওয়া জরুরি। আমার ব্যক্তিগত মতামত হলো, বর্তমানে যে স্থানে ডে-কেয়ারটি পরিচালিত হচ্ছে, সেটি এই সেবার জন্য পুরোপুরি উপযুক্ত নয়। আদর্শ ডে-কেয়ারের জন্য খোলামেলা পরিবেশ, খেলাধুলার জায়গা এবং শিশু উপযোগী অবকাঠামো প্রয়োজন।

তিনি আরও যোগ করেন, ডে-কেয়ার পরিচালনা কমিটি যদি উন্নয়নের জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও উপযুক্ত স্থানের প্রস্তাব দেয়, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।