মাছের পুকুরে সাঁতারের ক্লাস, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে যবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) নিজস্ব সুইমিং পুল না থাকায় শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান (পিইএসএস) বিভাগের শিক্ষার্থীদের পুকুরে অ্যাকুয়াটিকস কোর্সের ব্যবহারিক ক্লাস করতে হচ্ছে। ক্যাম্পাসসংলগ্ন একটি পুকুরে এ ক্লাস পরিচালিত হওয়ায় নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যঝুঁকি ও নানা ধরনের ভোগান্তির মুখে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা। এ পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি আধুনিক সুইমিং পুল নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
জানা গেছে, পিইএসএস বিভাগের তিন ক্রেডিটের অ্যাকুয়াটিকস কোর্সে সাঁতারের কৌশল, পানিতে নিরাপত্তা, জীবন রক্ষার কৌশল, ওয়াটার পোলো, ডাইভিংসহ বিভিন্ন জলক্রীড়াভিত্তিক বিষয়ে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজস্ব সুইমিং পুল না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসসংলগ্ন একটি পুকুরেই এ প্রশিক্ষণ চলছে। এতে নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যবিধি ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি সামাজিক নানা সমস্যারও মুখোমুখি হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, যে পুকুরে ব্যবহারিক ক্লাস নেওয়া হয়, সেটি অ্যাকুয়াটিকস প্রশিক্ষণের জন্য উপযুক্ত নয়। পুকুরের পানির গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না হওয়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। মাছ চাষের জন্য নিয়মিত বিভিন্ন ওষুধ এবং কখনও চুন প্রয়োগ করায় পানির নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা থাকে। এ কারণে অনেক সময় ক্লাস স্থগিত করতে হয়। ক্লাস শেষে অনেক শিক্ষার্থী ত্বকের বিভিন্ন সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
পিইএসএস বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী এবং দুইবার বাংলা চ্যানেল অতিক্রমকারী মিতু আক্তার বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার পাঁচ বছরের শিক্ষাজীবনে বারবার শুনেছি, আমাদের জন্য একটি সুইমিং পুল নির্মাণ করা হবে। কিন্তু পড়াশোনা শেষ হওয়ার পথে এসেও সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন দেখলাম না। প্রয়োজনীয় অনুশীলনের সুযোগ-সুবিধা ছাড়াই আমরা আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সাফল্য অর্জন করছি। নিজস্ব একটি সুইমিং পুল থাকলে আমাদের প্রস্তুতি আরও ভালো হতো এবং ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্য অর্জন সম্ভব হতো।’
বিভাগটির তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন, ‘ক্যাম্পাসের বাইরে একটি পুকুরে আমাদের ব্যবহারিক ক্লাস করতে হয়। পুকুরটির পরিবেশ স্বাস্থ্যসম্মত নয়। ক্লাস শেষে অনেক শিক্ষার্থী ত্বকের বিভিন্ন সমস্যায় ভোগেন। এ ছাড়া ক্যাম্পাস থেকে দূরে গিয়ে ক্লাস শেষে ভেজা শরীরে ফিরে এসে গোসল ও পোশাক পরিবর্তন করতে হয়, যা শিক্ষার্থীদের জন্য অস্বস্তিকর ও ভোগান্তির। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি আধুনিক সুইমিং পুল নির্মাণের দাবি জানাই, যাতে নিরাপদ ও উপযুক্ত পরিবেশে ব্যবহারিক ক্লাস করা যায়।’
এ বিষয়ে পিইএসএস বিভাগের প্রভাষক মো. গাজী বলেন, ‘পুকুরে সাঁতার ক্লাস পরিচালনা করতে গিয়ে নানা জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়। অ্যাকুয়াটিকস কোর্সে শুধু সাঁতার নয়, ওয়াটার পোলো, ডাইভিং, জীবন রক্ষার কৌশল ও পানির নিরাপত্তাবিষয়ক প্রশিক্ষণও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সাঁতারের জন্য পানির নির্দিষ্ট পিএইচ (pH) মাত্রা প্রয়োজন, যা পুকুরে নিয়ন্ত্রণ করা প্রায় অসম্ভব।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রয়োজনীয় স্টার্টিং প্ল্যাটফর্ম না থাকায় ডাইভ, জাম্প ও ফলস স্টার্টের মতো অনুশীলন করানো যায় না। এ ছাড়া পুকুরে মাছ চাষের জন্য নিয়মিত বিভিন্ন ওষুধ ও কখনও চুন প্রয়োগ করা হয়। ফলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে অনেক সময় ক্লাস স্থগিত রাখতে হয়। তাই বিভাগের জন্য একটি আধুনিক সুইমিং পুল নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি। এটি নির্মিত হলে ব্যবহারিক ক্লাস আরও নিরাপদ, মানসম্মত ও নির্বিঘ্নভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।’
.png)






