প্রতিষ্ঠার ১৩ বছরেও অধ্যাপক-সহযোগী অধ্যাপক শূন্য যবিপ্রবির পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ

প্রতিষ্ঠার প্রায় সাড়ে ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে এখনও কোনো অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপক নেই। আইনি জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে এসব পদে নিয়োগ ও পদোন্নতি বন্ধ থাকায় বিভাগটিতে বর্তমানে ছয়টি পদ শূন্য রয়েছে। বিভাগে যোগ্য শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও পদোন্নতি না হওয়ায় একাডেমিক ও গবেষণা কার্যক্রমে এর প্রভাব পড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
নিয়োগ ও পদোন্নতি-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের দাবিতে বিভাগের শিক্ষকরা ২ সেপ্টেম্বর (বুধবার) থেকে প্রাথমিকভাবে একাডেমিক কার্যক্রম বর্জন করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনো এর কোনো সমাধান হয়নি বলে জানিয়েছেন বিভাগের শিক্ষকরা।
বিভাগীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালে যাত্রা শুরু করে যবিপ্রবির পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ। ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ে বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক পদে দুটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০২৩ সালের শুরুর দিকে ওই পদে নিয়োগ বোর্ড অনুষ্ঠিত হয়। ওই বোর্ডে নিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. আলমগীর বাদশা এবং গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) একজন শিক্ষকের নামে কার্ড ইস্যু করা হয়।
তবে গোবিপ্রবির ওই শিক্ষকের কার্ড পাওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানান যবিপ্রবির পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. হুমায়ূন কবির। নিজের প্রতি অবিচার হয়েছে দাবি করে তিনি নিয়োগ বোর্ড স্থগিতের জন্য আদালতে রিট পিটিশন করেন। নানা কারণে ওই রিট পিটিশনের এখনো সমাধান হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রিট পিটিশনের বিষয়টি আদালতে নিষ্পত্তি না হওয়ায় বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক পদে নতুন করে কোনো নিয়োগ বা পদোন্নতি দেওয়া হয়নি।
ফলে প্রতিষ্ঠার ১৩ বছর পার হলেও বিভাগটিতে বর্তমানে কোনো অধ্যাপক বা সহযোগী অধ্যাপক নেই।
বিভাগীয় সূত্র আরও জানায়, ২০২২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক পদে মোট ছয়টি পদ শূন্য রয়েছে। বর্তমানে বিভাগের অন্তত সাতজন শিক্ষকের সহযোগী অধ্যাপক হওয়ার প্রয়োজনীয় যোগ্যতা রয়েছে। যোগ্য শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে এসব পদে নিয়োগ ও পদোন্নতি না হওয়ায় বিভাগের একাডেমিক কার্যক্রমে এর প্রভাব পড়ছে। একই সঙ্গে পদোন্নতিপ্রত্যাশী শিক্ষকদের মধ্যেও হতাশা তৈরি হচ্ছে।
এ ছাড়া যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও প্রায় ১০ বছরের বেশি সময় ধরে পদোন্নতি না পেয়ে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে চাকরি করছেন বিভাগের কয়েকজন শিক্ষক।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিভাগে অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপক না থাকায় উচ্চশিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সুপারিশপত্র বা রিকমেন্ডেশন সংগ্রহের ক্ষেত্রেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাদের। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠার প্রায় সাড়ে ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও বিভাগে অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপক না থাকায় একাডেমিক ও গবেষণাক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করতে পারছে না ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত বিভাগটি।
রিটের বিষয়ে ড. মো. হুমায়ূন কবির বলেন, ২০২২ সালের একটি বিজ্ঞপ্তিতে উন্মুক্ত পদে সহযোগী অধ্যাপক হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা নিয়ে তিনি আবেদন করেন। সেখানে সাত বছরের অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হলেও তার ছিল আট বছরের অভিজ্ঞতা। এই যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তাকে নির্বাচিত করা হয়নি। অথচ এর চেয়ে কম যোগ্যতার বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক সহযোগী অধ্যাপক হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
ড. মো. হুমায়ূন কবির বলেন, এভাবে তিনি বঞ্চিত হয়েছেন এবং কেন তাকে কার্ড দেওয়া হবে না, সে বিষয়ে তিনি আদালতে রিট করেছিলেন। ন্যায্য বিচার না পেলে তিনি রিট তুলে নেবেন না।
পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. মাসুম বিল্লাহ বলেন, বিভাগে যোগ্য প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও কোনো নিয়োগ হচ্ছে না। সিনিয়র শিক্ষকরা পদোন্নতি না পাওয়ায় জুনিয়র শিক্ষকরাও পদোন্নতি পাচ্ছেন না। ফলে বিভাগে অস্থায়ী শিক্ষকদের স্থায়ীকরণও আটকে গেছে।
তিনি আরও বলেন, বিভাগে সিনিয়র শিক্ষক না থাকায় পিএইচডি শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কম। বড় বড় প্রজেক্ট পাওয়ার ক্ষেত্রেও নানা সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
ড. মো. মাসুম বিল্লাহ বলেন, যেসব শিক্ষক বছরের পর বছর পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, তাদের অন্তত ডিউ ডেট দেওয়া হলে বিষয়টি কিছুটা স্বস্তিদায়ক হবে। তিনি আশা করছেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রশাসন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের দীর্ঘদিনের নিয়োগ জটিলতার সমাধান করবে এবং শিক্ষকরা এই বঞ্চনা থেকে মুক্তি পাবেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, মূলত আইনি জটিলতার কারণে নিয়োগ দেওয়া যাচ্ছে না। যিনি রিট পিটিশন করেছেন, তিনি যদি তা তুলে নেন, তাহলে বিষয়টি সহজেই সমাধান হয়ে যাবে।
উপাচার্য আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিজেদের জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনজীবীর মাধ্যমে আইনি জটিলতা কাটিয়ে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।


