logo
Advertisement

রাবি শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন

এশিয়া পোস্ট নিউজ, রাবি
রাবি শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন
ড. সুজন সেনকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের দাবিতে রাবির চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের মূল ফটকে অবস্থান শিক্ষার্থীদের। ছবি: এশিয়া পোস্ট।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের শিক্ষক ড. সুজন সেনকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেছেন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অযোগ্যতার অভিযোগে ছয় দাবি জানিয়ে তা বাস্তবায়নে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

Advertisement

রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে বিভাগের মূল ফটকে অবস্থান নিয়ে বিবৃতিতে এ সিদ্ধান্ত জানায় তারা।

দাবিগুলো–সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিটির পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করে কোন কোন অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে তা জানানো, বর্তমান শাস্তির মাত্রা নির্ধারণে ব্যবহৃত তথ্য-প্রমাণের ব্যাখ্যা দেওয়া; প্রাথমিক তদন্ত ও পরবর্তী ইনকোয়ারির সিদ্ধান্ত ও সুপারিশের মধ্যে পার্থক্যের কারণ ব্যাখ্যা করা; তদন্তপ্রক্রিয়ায় কোনো অসংগতি পাওয়া গেলে পুনঃতদন্তের উদ্যোগ নেওয়া এবং অভিযোগের গুরুত্ব ও প্রকৃতি বিবেচনায় ড. সুজন সেনকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার।

বিভাগের স্নাতোকোত্তর পড়ুয়া শিক্ষার্থী আছিয়া খাতুন বলেন, আমরা দীর্ঘ দুই বছর ধরে ড. সুজন সেনের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ করে আসছি। প্রশাসনের কাছে আমরা প্রায় ২০০ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রও দিয়েছি। তদন্ত কমিটি তাকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুতির সুপারিশ করলেও সিন্ডিকেট তাকে পাঁচ বছরের অব্যাহতি দিয়েছে, যা আমরা শাস্তি হিসেবে মানি না। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের বিষয়ে প্রশাসনের সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত চাই। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

শিক্ষককে স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন বিভাগের শিক্ষার্থীদের। ছবি: এশিয়া পোস্ট
শিক্ষককে স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন বিভাগের শিক্ষার্থীদের। ছবি: এশিয়া পোস্ট

বিভাগের শিক্ষার্থী আসাদ সাদিক রাফি বলেন, ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি স্থায়ী বরখাস্তের সুপারিশ করলেও তাকে পাঁচ বছরের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ার পরও আত্মসাতের অর্থের পরিমাণ, ফৌজদারি ব্যবস্থা না নেওয়া এবং অযোগ্য অবস্থায় নেওয়া বেতন-ভাতার বৈধতা নিয়ে প্রশাসন কোনো জবাব দেয়নি। তদন্ত প্রতিবেদন চেয়েও আমরা পাইনি। তাই আমরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেছি। দাবি পূরণ না হলে সামনে আরও কঠোর কর্মসূচি নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী বলেন, সুজন সেন সম্পর্কে আমাদের কাছে এখনও কোনো অফিসিয়াল পত্র আসেনি। গত সিন্ডিকেটে যে তথ্যগুলো আমরা শুনেছি, সেগুলো ছাড়া অফিসিয়ালভাবে এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে কিছু আসেনি। তাই সুজন সেনের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে পারছি না।

রাবি চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের শিক্ষক ড. সুজন সেন। ছবি: এশিয়া পোস্ট
রাবি চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের শিক্ষক ড. সুজন সেন। ছবি: এশিয়া পোস্ট

গত বছরের ২৫ আগস্ট ড. সুজন সেনকে বিভাগে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন শিক্ষার্থীরা। একই বছরের ৮ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, ছাত্র উপদেষ্টা ও বিভাগের সভাপতির কাছে বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রমাণসহ প্রায় ২০০ পৃষ্ঠার লিখিত অভিযোগ দেন তারা। অর্থ কেলেঙ্কারি, অযোগ্যতা ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে চলতি বছর ১৭ আগস্ট তাকে পাঁচ বছরের জন্য একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে তাকে সহযোগী অধ্যাপক পদ থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে অবনমন করা হয়।