logo

সিনিয়র-জুনিয়র বিরোধে কুবিতে দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ৮

সিনিয়র-জুনিয়র বিরোধে কুবিতে দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ৮
সংঘর্ষে জড়ায় কুবির শিক্ষার্থীরা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) সিনিয়র-জুনিয়রের মধ্যে কথা-কাটাকাটিকে কেন্দ্র করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের শিক্ষার্থীদের একাংশের কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

এতে উভয় পক্ষের অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ঘটনার সময় প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি, প্রকৌশল অনুষদ, ক্যাম্পাসের প্রধান ফটক ও শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের সামনে এসব ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে সিনিয়র-জুনিয়রের মধ্যে কথা-কাটাকাটির জেরে প্রথমে মারামারির ঘটনা ঘটে। পরে বিষয়টি প্রক্টর অফিসে নেওয়া হলে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়। তারা বিষয়টি মেনে নিয়ে সেখান থেকে চলে যান।

এর কিছুক্ষণ পর বাসায় যাওয়ার সময় ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের কাছে আইসিটি বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর ওপর ফের হামলার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থী শামীম মজুমদার গুরুতর আহত হন বলে জানা গেছে। তার হাতে গুরুতর আঘাত লাগে এবং হাত ভেঙে গেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের সাকিব, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের সাকিল এবং একই বর্ষের নৃবিজ্ঞান বিভাগের আবির জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

পরে লাঠিসোঁটা নিয়ে কয়েকজন আইসিটি বিভাগ পর্যন্ত যান বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিভাগ থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় বিভাগের প্রধান ফটকে তালা দেওয়া হয়। পরে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা তালা খুলে দিলে আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে আসা ব্যক্তিদের ধাওয়া করেন।

ধাওয়া করতে করতে তারা শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলে পৌঁছালে সেখানে উভয় পক্ষের মধ্যে ফের কয়েক দফা সংঘর্ষ ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত আটজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদাৎ হোসাইন এশিয়া পোস্টকে বলেন, ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে লাইব্রেরিতে। আমরা শুরুতেই বিষয়টি সমাধান করে দিয়েছিলাম। এরপর কীভাবে আবার সংঘর্ষ ঘটেছে, তা এই মুহূর্তে বলতে পারছি না। খোঁজ নিয়ে পরবর্তীতে জানাব। তাৎক্ষণিকভাবে এর বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়।