হাসিনাকে ফেরাতে নোবিপ্রবির ৩৮ শিক্ষকের তৎপরতা, দুই মাসেও প্রতিবেদন দেয়নি কমিটি

সম্প্রতি ‘শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ২২ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ শিক্ষকের গোপন তৎপরতা’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেখানে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ৩৮ শিক্ষকের নাম উল্লেখ করা হয়। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নজরে এলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের পরিচয় ও প্রতিবেদনে উল্লিখিত ভূমিকা যাচাইয়ে গত ৫ আগস্ট পাঁচ সদস্যের একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়। তবে কমিটি গঠনের প্রায় দুই মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো প্রতিবেদন জমা হয়নি।
বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অংশীজনের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষকদের দ্রুত শনাক্ত করে বিচারের দাবিও জানিয়েছে সংগঠনগুলো।
এদিকে গত ২১ সেপ্টেম্বর দেশের ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শতাধিক শিক্ষকের বিরুদ্ধে গঠিত ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং, ইনকোয়ারি ও তদন্ত কমিটির বৈধতা নিয়ে রুল জারি করে হাইকোর্ট। হাইকোর্ট এসব কমিটি কেন বিলুপ্ত বা প্রত্যাহার করা হবে না এবং কমিটি গঠন ও পরবর্তী পদক্ষেপ কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ এফ এম আরিফুর রহমান সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন।
এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনকে সাক্ষাৎকারের জন্য ডেকেছি। তদন্তের স্বার্থে আরো কিছু তথ্য প্রমাণ প্রয়োজন। খুব গোপনীয়তার সঙ্গে কাজটি করতে হচ্ছে। এজন্য তথ্য সংগ্রহ করতে একটু সময় লাগছে। তবে কাজ চলমান আছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নোবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, তদন্ত কমিটি এখনো প্রতিবেদন জমা দেয়নি। তবে আমরা তাদের আগামী রিজেন্ট বোর্ডের সভার আগেই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার বিষয়টি আমরা নিশ্চিত করব।
