১৩ মাসেও মেলেনি ইবি শিক্ষার্থী সাজিদ হত্যার রহস্য

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের ১৩ মাস পেরোলেও ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন হয়নি। তদন্তভার পুলিশ থেকে সিআইডি এবং পরবর্তীতে তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করেও তদন্তে অগ্রগতি মেলেনি। মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত সাজিদের মোবাইলের লকসহ বেশ কিছু অমীমাংসিত প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেনি তদন্ত সংস্থা।
বিচার দাবিতে শিক্ষার্থীদের একের পর এক বিক্ষোভ, আন্দোলন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি হলেও টনক নড়েনি তদন্ত সংস্থা ও প্রশাসনের। মামলার কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরিবার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
জানা গেছে, সাজিদ আবদুল্লাহ আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। গত বছরের ১৭ জুলাই বিকেল পৌনে ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আজিজুর রহমান হলের সামনের পুকুর থেকে সাজিদ আব্দুল্লাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন ১৮ জুলাই সকাল সাড়ে ৯টায় কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে তার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। ৩ আগস্ট প্রকাশিত ভিসেরা প্রতিবেদনে সাজিদের মৃত্যু ময়নাতদন্তের সময় থেকে ৩০ ঘণ্টা আগে, অর্থাৎ ১৬ জুলাই রাত সাড়ে ৩টার দিকে হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। পরে ৪ আগস্ট সাজিদের বাবা আহসান হাবিবুল্লাহ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে ইবি থানায় হত্যা মামলা করেন।
প্রথমে মামলাটির তদন্ত করেন ইবি থানার ইন্সপেক্টর আবদুল্লাহ আল মামুন। পরে পরিবারের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ইবি থানা থেকে মামলার তদন্তভার কুষ্টিয়া সিআইডির ইন্সপেক্টর সাইফুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে গত মে মাসে সাইফুল ইসলামকে পরিবর্তন করে কুষ্টিয়া সিআইডির ইন্সপেক্টর মহব্বত হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে এখন পর্যন্ত মামলায় কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি সিআইডি।
এদিকে সাজিদ হত্যাকাণ্ডের নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছে নানান অমীমাংসিত প্রশ্ন। সেগুলো হলো, হত্যাকাণ্ডের রাতে সাজিদের রুম সিলগালার পরও এক কর্মকর্তার রুমে প্রবেশ, হলে নতুন করে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগালে প্রভোস্টের বিনা অনুমতিতে এক কর্মকর্তার মোবাইলে এক্সেস নিয়ে ফুটেজ ডিলিট, হত্যাকাণ্ডের রাতে মেইন গেট দিয়ে ভ্যানে শোয়ানো এক ব্যক্তি সহ চারজনের প্রবেশ, সাজিদের মৃত্যুর পরও কয়েকবার তার মোবাইলে কল রিসিভ হওয়া, সিআইডি ১ বছর ধরে সাজিদের মোবাইল ফোনের লক খুলতে না পারা এবং সাজিদের কাছের বন্ধু ইনসানের ফোন ক্লোনের ঘটনা।
এসব প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে না পারায় বিষয়টিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্ত সংস্থার উদাসীনতা হিসেবেই দেখছেন শিক্ষার্থীরা। সাজিদের সহপাঠী মোজ্জামেল হোসেন বলেন, এখনও অনেক অমীমাংসিত প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়নি। দীর্ঘ এক বছরে সাজিদের হত্যাকারীদের শনাক্ত করতে না পারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সিআইডির চরম গাফিলতি ছাড়া আর কিছু না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সিআইডির এমন খামখেয়ালিপনা গ্রহণযোগ্য নয়। বিচারহীনতার এই সংস্কৃতির শিক্ষার্থীদের মাঝে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি তৈরি করছে। ফলে আমরা প্রতিনিয়ত নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
সাজিদের বাবা আহসান হাবিবুল্লাহ এশিয়া পোস্টকে বলেন, আমার ছেলের হত্যাকাণ্ডের বিচারের কোনো অগ্রগতি নেই। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আমার কোনো যোগাযোগ নেই। তবে সিআইডির সঙ্গে যোগাযোগ আছে। কিন্তু মামলার কোনো আপডেট পাই না। আমার কাছে সিআইডি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন- সবারই গাফিলতি মনে হচ্ছে।
মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির ইন্সপেক্টর মহব্বত হোসেন এশিয়া পোস্টকে বলেন, দায়িত্ব পাওয়ার পর তদন্তের কাজে বেশ কয়েকবার ক্যাম্পাসে গিয়েছি। কিছু অগ্রগতিও হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এসব বিষয় বলা যাবে না।
এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমানের মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও কল রিসিভ হয়নি। পরে উপাচার্যের দপ্তরে গিয়ে যোগাযোগ করা হলেও ব্যস্ত রয়েছেন বলে দেখা করার সুযোগ মেলেনি।
