logo
Advertisement

র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় অসুস্থ হওয়ার অভিযোগ নবীন শিক্ষার্থীর

র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় অসুস্থ হওয়ার অভিযোগ নবীন শিক্ষার্থীর
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: এশিয়া পোস্ট

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) ইমিডিয়েট সিনিয়রদের বিরুদ্ধে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ তুলেছে মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে কীর্তনখোলা নদীর পাড়ে ইমিডিয়েট সিনিয়রদের র‍্যাগিংয়ের সময় এক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) ভর্তি করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মো. শরিফুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের (১৫তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী। সর্বশেষ জানা গেছে, তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ভুক্তভোগী ও সহপাঠীদের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নবীন শিক্ষার্থীদের কীর্তনখোলা নদীর পাড়ে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তাদের সঙ্গে অশালীন ভাষায় কথা বলা ও গালিগালাজ করা হয়। নির্ধারিত সময়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী সেখানে না পৌঁছালে তাদের ভয় দেখিয়ে পুনরায় রাত ৯টার দিকে ডেকে নেওয়া হয়। পরে আনুমানিক রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত র‍্যাগিং চলে বলে অভিযোগ করেন তারা।

শিক্ষার্থীরা জানান, আমরা পড়াশোনা করতে বাড়ি ছেড়ে এসেছি, ভয় নিয়ে বাঁচতে নয়। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ওই সময় ১৪তম ব্যাচের অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। তারা হলেন—নূর মোহাম্মদ পরশ (সিআর), অনিক, নাজ, শ্রাবণ, অনুপম, লিমন, জয়, রিয়াদ, প্রীতম ও রাফি।

ঘটনাস্থলে নিজের উপস্থিতির কথা স্বীকার করে ১৪তম ব্যাচের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নূর মোহাম্মদ পরশ বলেন, আমি সেখানে পরে গিয়েছিলাম। ছেলেটা আগে থেকেই অসুস্থ ছিল। পরে আমরা তাকে হাসপাতালে ভর্তি করি।

এদিকে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ অস্বীকার করে বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. জামাল উদ্দিন বলেন, র‍্যাগিংয়ের কোনো ঘটনা ঘটেনি। ছেলেটার আগে থেকেই পেটের সমস্যা ছিল। অসুস্থ হওয়ার পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আমিও রাতে এসেছি। তার বাবার সঙ্গে কথা হয়েছে, তিনি আসবেন। যদি র‍্যাগিংয়ের কোনো অভিযোগ লিখিতভাবে আসে, তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. মেহেদী হাসান সোহাগ জানান, র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে দেখতে হাসপাতালে যাবো। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।